অবসর ভেঙে ৪০ বছর বয়সে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। লক্ষ্য ছিল, প্রতিপক্ষের যাবতীয় আক্রমণ একা হাতে রুখে দিয়ে দেশকে আবার বিশ্বজয়ী করবেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চ বোধহয় বুঝিয়ে দিল, তিনি 'বৃদ্ধ' হয়েছেন। তাই পেনাল্টি আটকাতে আগের মতো সক্ষম নন। একরাশ যন্ত্রণা বুকে নিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবল অধ্যায় শেষ করলেন ম্যানুয়েল নয়্যার (Manuel Neuer)। প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে বিদায় নিল তাঁর জার্মানি।
২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি টানা তিন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরতে পারেনি। দীর্ঘ ১২ বছর পর চলতি বিশ্বকাপেই নকআউটে জায়গা করে নেয় জার্মান ব্রিগেড। ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের একমাত্র ফুটবলার হিসাবে কেবল নয়্যারই ছিলেন এবারের স্কোয়াডে। যদিও নয়্যার ২০২৪ ইউরোর পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান। কিন্তু তাঁর বিশাল অভিজ্ঞতা এবং দুরন্ত পারফরম্যান্সকে মাথায় রেখে নয়্যারকে ফেরানো হয় বিশ্বকাপের দলে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে যেভাবে একের পর এক ক্ষিপ্র সেভ করেছেন, সেই ফর্মের ঝলক দেখাবেন বিশ্বমঞ্চেও-নয়্যারের থেকে এমনটাই আশা করেছিল জার্মান ভক্তকুল।
নয়্যারও হয়তো ভেবেছিলেন, তরুণ জার্মান ব্রিগেডের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বেন। আবারও বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়ে আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ করবেন। কিন্তু স্বপ্ন কি সবসময়ে সত্যি হয়? জার্মানির জার্সি গায়ে শেষ ম্যাচটা এই বিশ্বকাপেই খেলবেন, টুর্নামেন্টের আগে সেটা ঘোষণা করেই দিয়েছিলেন কিংবদন্তি গোলকিপার। কিন্তু বিদায়টা যে এত যন্ত্রণার হবে, সেটা সম্ভবত ভাবতে পারেননি। প্যারাগুয়ে, যারা কিনা ফুটবল বিশ্বকাপে 'কুলীন'দের মধ্যে পড়ে না, তাদের বিরুদ্ধে হারতে হল। পেনাল্টি শুট আউটে তাঁর সমুদ্রসমান অভিজ্ঞতার উপর আস্থা রেখেছিল জার্মান ব্রিগেড। কিন্তু সেই আস্থার মর্যাদা রাখা হল না।
ম্যাচ হারের পর সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলকিপার জানালেন, "সবটা এভাবে শেষ হল, খুব খারাপ লাগছে।" যদিও বিদায়লগ্নে এসে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে রেকর্ড গড়েছেন। জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নজির এখন তাঁর ঝুলিতে। ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন জার্মানি হয়ে। এবার তাঁর দেশের জার্সি তুলে রাখার পালা।
