বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) ম্যাচের সেরা হলে পুরস্কার পান ফুটবলাররা। কিন্তু সবার জন্য ঠিক এক পুরস্কার নয়। সামান্য পার্থক্য থাকছে। যার নেপথ্যে ধর্মীয় কারণ। বিশেষত মুসলমান ফুটবলারদের ক্ষেত্রে ফিফা পুরস্কারে পার্থক্য নিয়ে এসেছে। মিশরের মহম্মদ সালাহ কিংবা মরক্কোর ইসমায়েল সাইবাড়ি, আশরাফ হাকিমির জন্য আলাদা নিয়ম। কিন্তু কেন?
এবার বিশ্বকাপের ম্যাচ সেরার পুরস্কার হিসেবে একটি বিশেষ ট্রফি দেওয়া হয়। যার স্পনসর মিশেলব আলট্রা। যা একটি মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা। কোনও ফুটবলার ম্যাচ সেরা হলে তাদের ট্রফিতে ওই সংস্থার নাম লেখা থাকে। সেই ফুটবলার যেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, তার পিছনে স্পনসরের লোগো থাকে। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও এভাবেই ছবি তুলেছেন। কিন্তু মুসলিম ফুটবলারদের জন্য অন্য ব্যবস্থা।
কারণ মদ্যপান ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ। অনেক ফুটবলার সেটা খুব কঠোরভাবে পালন করেন। তাঁদের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কারের ট্রফিতে মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম থাকছে না। বাকি ট্রফি একই থাকছে। এমনকী পিছনেও ওই সংস্থার লোগো থাকছে না। ফিফার এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে অতীত বিশ্বকাপের বিতর্ক। ২০১৮ সালে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জেরে ম্যাচের সেরা হন মিশরের মহামেদ এল শেনায়ি। সেই সময় অন্য আরেকটি মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা ম্যাচ সেরা ট্রফির স্পনসর ছিল। যে কারণে মহামেদ সেটা নিতে রাজি হননি।
২০২২-এ কিলিয়ান এমবাপে ম্যাচ সেরার ট্রফি পাওয়ার পর মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগো হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। তাঁর জন্য ফাইনও দিয়েছিলেন তিনি। এমবাপে এবারও তাই করছেন। তাঁর নীতি হল, কোনও মদ বা জুয়া সংস্থার হয়ে তিনি বিজ্ঞাপন করবেন না। অন্য মুসলিম প্লেয়াররাও তাই করেছিলেন। ঘরোয়া ফুটবলে ইয়া ইয়া তোরে অনেক বছর আগেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার হিসেবে মদের বোতলের উপহার নিতে রাজি হননি।
