ম্যাচের শুরুতে মনে হচ্ছিল লিওনেল মেসিকেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খলনায়কের আসনে বসাতে হবে। যেভাবে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পেনাল্টি স্পট থেকে নির্বিষ শটে পত্রপাট মিশরের গোলরক্ষকের হাতে বলটি তুলে দিলেন, তাতে অতি বড় মেসি ভক্তও হতাশ হয়েছেন নিশ্চিত। এতে অনেকের হৃদয় ভাঙেনি, প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এক বাংলাদেশি ভক্তের।
ঠিক কী ঘটেছে? বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার রাতে এক চায়ের দোকানে মিশর বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ চলাকালীন সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। যা এক সময় সংঘর্ষে রূপ নেয়। 'দ্য ডেইলি স্টারে'র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজিরা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শঙ্কর কুমার দাস জানিয়েছেন, মেসির পেনাল্টি মিসকে কেন্দ্র করেই বচসা শুরু হয়েছিল। ঘটনাটি আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় রাতের দিকে ঘটেছে।
জানা গিয়েছে, আর্জেন্টিনা সমর্থক স্থানীয় বাবু ও মইন উদ্দিন মালু নামে দু'জন শরিফুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়রা আক্রান্তকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। 'প্রথম আলো'র আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশায় অটোরিকশাচালক শরিফুল ব্রাজিলের সমর্থক হলেও সেদিন মিশরকে সমর্থন করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ইকরাম উল্লাহ বলেন, "ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু যুবক প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। যা কোনওভাবে কাম্য নয়। জড়িতদের দ্রুত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
এদিকে ৩৫ বছর বয়সি শরিফুলের স্ত্রী বিউটি বানু শোকে মুহ্যমান। তিনি বলেন, “একটা ফুটবল ম্যাচের জন্য মানুষ কীভাবে একজনকে খুন করতে পারে? আমার দু'টি কন্যাসন্তান আছে। এখন ওরা কাকে বাবা বলে ডাকবে? আমার দুই মেয়ে অনাথ হয়ে গেল। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তাদের কঠোরতম শাস্তি চাই। আমি একজন গরিব ও অসহায় নারী। এখন আমি আমার দুই মেয়েকে কীভাবে বড় করব? আমার পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।”
