পর্তুগাল: ১ (জোয়াও নেভেস)
ডিআর কঙ্গো: ১ (ইয়োআন উইজা)
মানচিত্রে স্পেন আর পর্তুগালের অবস্থান একেবারে পাশাপাশি। প্রতিবেশী দুই দেশ যে বিশ্বকাপের শুরুতে একেবারে একইরকমভাবে ধাক্কা খাবে, সেটা বোধহয় কল্পনাই করতে পারেনি কেউ। কয়েকদিন আগে পুঁচকে কেপ ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল ইউরোপসেরা স্পেন। এবার ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ধারেভারে এগিয়ে থেকেও জয় অধরা পর্তুগালের। ম্যাচের প্রায় পুরো সময়টা বলের দখল ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের পায়ে। কিন্তু ম্যাচের দখল পেল না পর্তুগাল।
বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে নজির গড়ে এদিন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেন রোনাল্ডো। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে গোলের চেষ্টায় প্রাণপাত করতে দেখা গেল তাঁকে। অধিনায়ক সিআর সেভেনের নেতৃত্বে প্রথম থেকেই ঝোড়ো গতিতে এগোতে শুরু করল পর্তুগালের গোটা স্কোয়াড। মাত্র ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের অনবদ্য হেডারে এগিয়ে গেল রোনাল্ডোর দল। মাঠজুড়ে লাল জার্সিধারীদের দাপটে তখন যেন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে ডিআর কঙ্গো।
গোলের ব্যবধান যখন আরও বাড়ানোর দিকে মন দিচ্ছেন ব্রুনো ফার্নান্ডেজরা, সেসময়ে খানিকটা নিঃশব্দেই ঘুরে দাঁড়াল আফ্রিকার দেশটি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে কঙ্গো। প্রথম ম্যাচেই পর্তুগালের মতো হেভিওয়েট প্রতিপক্ষ। কিন্তু স্যামুয়েল মুথুস্বামীরা খেলতে নেমেছিলেন কার্যত বিনা প্রস্তুতিতে। দেশে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ২১ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে বন্দি ছিলেন ফুটবলাররা। প্রস্তুতির যাবতীয় বন্দোবস্ত বানচাল হয়ে যায়। তবুও একবুক সাহসকে সম্বল করে কঙ্গো নেমে পড়েছিল অন্যতম ফেভারিট দলের বিরুদ্ধে।
প্রথম ১৫ মিনিট পর্তুগিজ ঝড় সামলে নিয়ে রক্ষণ আঁটসাট করার দিকে মন দেন স্টিভ কাপাউদিরা। সেখান থেকেই পর্তুগালের হতাশার শুরু। একের পর এক অনবদ্য আক্রমণ করেছেন ভিতিনহা-নেতোরা। কিন্তু কঙ্গোর রক্ষণে আটকে গিয়েছেন বারবার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগেই কঙ্গোর ম্যাজিক মোমেন্ট। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে লাফিয়ে উঠে মাথা ছোঁয়ালেন ইয়োআন উইজা। বিশ্বকাপে প্রথম গোল কঙ্গোর। লেখা হল ইতিহাস।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও ঠিক একইরকম তেড়েফুঁড়ে আক্রমণের পথে হাঁটে পর্তুগাল। কনসিসেওকে নামিয়ে বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন রোনাল্ডোদের হেডস্যর রবার্তো মার্তিনেজ। কিন্তু বাইসাইকেল কিকে তাঁর অনবদ্য গোল বাতিল হল অফসাইডের কারণে। ৬৫ মিনিটের পর গোল পেতে রোনাল্ডো আরও মরিয়া হয়ে চেষ্টা করলেন। কিন্তু গোল লক্ষ্য করে শটটুকুও এল না তাঁর পা থেকে। রক্ষণ মজবুত করে বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানিয়েছিল কঙ্গোও। গোল অধরা থেকেছে তাদেরও। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই নতুন ইতিহাস লিখে ফেলল কঙ্গোও। বিশ্বকাপে এটাই যে তাদের প্রথম পয়েন্ট!
