কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর হস্তক্ষেপে অবশেষে কেটেছে আইএসএল জট। দেরিতে হলেও সংক্ষিপ্ত আকারে শুরু হতে চলেছে আইএসএল। সব মিলিয়ে ম্যাচ হবে মাত্র ৯১টি। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বেতন কমিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এফসি গোয়ার প্রথম দলের সকল ফুটবলার-সহ সাপোর্ট স্টাফরা। একই পথে হাঁটতে পারে অন্য ক্লাবও। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত যেন প্লেয়ারদের সম্মতিতে ও সম্মান জানিয়ে নেওয়া হয়, চাপ নিয়ে নয়। সেটা স্পষ্ট করে দিল ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রো।
বিশ্বজুড়ে ফুটবলারদের নিরাপত্তা, বৈষম্য ও সুরক্ষার ব্যাপারে কাজ করে ফিফপ্রো। শুক্রবার তাদের এশিয়া/ওশিয়ানিয়া শাখার তরফ থেকে সোশাল মিডিয়ায় আইএসএল নিয়ে দীর্ঘ বার্তা দেওয়া হয়। ভারতীয় ফুটবল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শুরু হচ্ছে, ফলে ফুটবলাররা ইতিমধ্যেই অনেক আত্মত্যাগ করেছেন। নিজস্ব সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন কিংবা অন্য কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছেন। ফিফপ্রো এই বিষয়ে সচেতন। তারপরও যে প্লেয়াররা পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা দেখাচ্ছেন, তার প্রশংসা করা হচ্ছে।
সেই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিচ্ছে, 'ফিফপ্রো সম্প্রতি জানতে পেরেছে কয়েকটি ক্লাব চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের বেতন কমাতে চাপ দিচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ ফিফা ও এআইএফএফ-এর নিয়মাবলির আওতায় খেলোয়াড়দের মৌলিক সুরক্ষাকে ক্ষুণ্ন করে। ক্লাবগুলোর কর্তব্য প্লেয়ারদের আর্থিক স্বার্থ দেখা ও চুক্তির শর্তকে অপরিবর্তিত রাখা। তবে কোনও প্লেয়ার যদি স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নেয়, ফিফপ্রো তা সম্মান করে। কিন্তু যদি চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়, তবে তা অন্যায্য বলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে সেই প্লেয়ার সম্পূর্ণভাবে ফিফপ্রো ও ভারতীয় ফুটবলারদের সংগঠনের উপর ভরসা করতে পারে।' শেষে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লিগ শুরু করতে গিয়ে যেন প্লেয়ারদের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ না করা করা হয়।
এফসি গোয়া অবশ্য জানিয়েছে, ক্লাবের কঠিন সময়ে প্লেয়ার ও সাপোর্ট স্টাফরা বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা গর্বিত। ফলে মনে করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত দু'পক্ষের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। তবে অন্য একটি দলও একই চেষ্টা করেছিল, কিন্তু প্লেয়াররা রাজি হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এরপরও যাতে কোনও প্লেয়ারকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা না করা হয়, সেই নিয়ে আগাম সতর্কতা জানিয়ে দিল ফিফপ্রো।
