ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানায় ফুটবলপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাই মার্কিন মুলুকে আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) বয়কটের ডাক দিলেন প্রাক্তন ফিফা প্রেসিডেন্ট স্বয়ং। একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সেপ ব্লাটার বলেন, আমেরিকার সীমান্ত পেরতে গিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের রীতিমতো হেনস্তার মধ্যে পড়তে হবে। যদি অভিবাসন আধিকারিকদের সন্তুষ্ট করতে না পারেন তাহলে প্রবল ভোগান্তি হবে ফুটবলপ্রেমীদের। তাই এই বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত।
ব্লাটারের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের দেশকে অভিবাসীমুক্ত করে তুলতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যেই আমেরিকা থেকে হাজারে হাজারে মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তাঁদের জন্মভূমিতে। ৭৫ টি দেশের নাগরিকদের জন্য আমেরিকার ভিসা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ। সেই সমস্ত দেশের তালিকায় রয়েছে ইরান, ব্রাজিল-সহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ যারা বিশ্বকাপে খেলবে। সেই দেশগুলির ফুটবলার, দর্শক, সাংবাদিকরা আদৌ ভিসা পাবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। যদিও ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে ফুটবলারদের জন্য তাঁর দেশের দরজা খোলা।
কিন্তু ট্রাম্পের এই আশ্বাস কি বাস্তবে আদৌ কার্যকর হবে? সংশয় রয়েছে অনেকের মনেই। সেই দলেই পড়েন প্রাক্তন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার। নিজের সোশাল মিডিয়ায় তিনি স্পষ্ট লেখেন, আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষে মোটেও সুখকর নয়। পরে একটি সাক্ষাৎকারে ব্লাটার বলেন, "পুরো পরিস্থিতি যদি খতিয়ে দেখা হয় তাহলে ফুটবলভক্তদের জন্য আমার একটাই উপদেশ, আমেরিকায় যেও না। কারণ সীমান্ত পেরনোর সময়ে তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করতে পারেন অভিবাসন আধিকারিকরা। পছন্দ না হলে পরের বিমানেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে ফুটবলপ্রেমীদের।"
উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই গ্রিনল্যান্ড দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন অবস্থানে ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফ্রান্স দাবি করেছিল, আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হোক। জার্মানির সুরও তেমনই। তবে আপাতত গ্রিনল্যান্ড নিয়ে লম্ফঝম্প বন্ধ করেছেন ট্রাম্প। ফুটবল মহলে গুঞ্জন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যদি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অভিযান চালিয়ে যান তাহলে বিশ্বকাপে ইউরোপের একাধিক দেশ দল না পাঠাতে পারে।
