ম্যানুয়েল নয়্যার ঠিক কোন ধাতু দিয়ে তৈরি? তাঁর ফিটনেস শিডিউল কী? কোন জাদুমন্ত্রে তিনি চল্লিশ বছর বয়সেও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ভয়ঙ্কর টিমের বিরুদ্ধে মূর্তিমান প্রাচীর হয়ে উঠলেন? ক্লাব ফুটবলে বিশ্বের ভয়ালতম ফরোয়ার্ড লাইনের একটা রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপে রয়েছেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়র রয়েছেন। সেই রিয়ালের বিরুদ্ধে, রিয়ালেরই ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাবাওয়ে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম পর্বে কি না ন'টা সেভ করলেন ন্যয়ার! লোথার ম্যাথেউজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যয়ারকে জাতীয় দলে ফেরানো হোক।
এক নয়, দুই নয়, ন'টা সেভ! রিয়ালকে তাদের ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম পর্বে বায়ার্ন মিউনিখ যে ২-১ উড়িয়ে ফিরছে, সেটা অবিশ্বাস্য নয়। দুই কেন, তারা চার-পাঁচ গোলও দিতে পারত! প্রকৃত অবিশ্বাস্য হল, ন্যয়ারের গোলকিপিং। চল্লিশ বছর বয়সে এমবাপে-ভিনিসিয়াসদের বারবার আটকে নয়্যারের মহানায়ক হয়ে ওঠা। এতটাই যে, রিয়াল-বায়ার্ন প্রথম লেগের ম্যাচে ন্যয়ারকে ছাড়া আর কাউকে 'মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার' নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।
এতটাই যে, লোথার ম্যাথেউজের মতো কিংবদন্তি জার্মান ফুটবলার পর্যন্ত দাবি তুলেছেন, ন্যয়ারকে জাতীয় দলে ফেরানো হোক। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে খেলতে নিয়ে যাওয়া হোক। বয়সকে আমল না দিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা চালিয়ে গেলেও, জাতীয় দলের হয়ে আর খেলেন না ন্যয়ার। অবসর নিয়ে ফেলেছেন। সেই অবসর ভাঙার কোনও ইচ্ছেও তাঁর বিশেষ নেই। তা সে যতই সামনে বিশ্বকাপ আসুক না কেন। গতকাল রিয়ালকে হারানোর পর ন্যয়ার নিজে বলে দিয়েছেন, "বায়ার্ন মিউনিখে খেলতে উপভোগ করি আমি। এখানে প্রত্যেকের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। জানি আমার বয়স চল্লিশ। কিন্তু তার পরেও খেলে যেতে সমস্যা হচ্ছে না। তবে বিশ্বকাপ নিয়ে যা বলার, আমি বলে দিয়েছি। ক্লাব মরশুমটা ভালো করে শেষ করা লক্ষ্য।"
ন্যয়ার নিজে কিছু বলছেন না বটে। কিন্তু বাকিদের তো বলতে অসুবিধে নেই। ম্যাথেউজ যেমন স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, "এই ন্যয়ার কিন্তু বিশ্বমানের। ওর জাতীয় দলে খেলা উচিত। আশা করি, জার্মানি কোচ নাগেলসম্যান রিয়ালের বিরুদ্ধে ন্যয়ারের খেলাটা দেখেছে। ন্যয়ারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দেখতে পেলে দারুণ লাগবে। কিন্তু জানি সেটা হবে না। নাগেলসম্যান ওর জন্য দরজা খুলবে না।"
