অবশেষে চাপের মুখে মাথা নোয়ালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) আয়োজনের ভার বেসরকারি কোনও সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, সেই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলেন ইনফান্তিনো। বিবৃতি দিয়ে জানালেন, প্রচুর মানুষের সমর্থন সত্ত্বেও এই পরিকল্পনা আপাতত পরিত্যাগ করা হল।
শুক্রবার ফিফার তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'সব পক্ষের সব মতামত শোনার পর এটা স্পষ্ট যে এই পরিকল্পনা নিয়ে মতানৈক্য আছে। সেই মতানৈক্য এতটাই যে এই প্রকল্পের পক্ষে বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও আমরা আপাতত এটা কার্যকর করার কথা ভাবছি না।' বস্তুত আজ নয় তো কাল, এই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসতেই হত ফিফাকে। কারণ ইনফান্তিনোর ওই প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার পর থেকেই একের পর এক মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা এর বিরোধিতা শুরু করে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার পর শুক্রবার সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে এশিয়াও। এশীয় ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ভাবেই এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া হবে না।
কিছুদিন আগে 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)' নামের এক প্রকল্প আমদানি করে ফিফা। ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ছিল, এখন থেকে ফিফার সব প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে এই সংস্থা। জেপি মর্গান এফএফই-র বাজারমূল্য নির্ধারণ করেছে ২০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। ঠিক হয়, সংস্থার ২১ শতাংশ শেয়ার এক বেসরকারি কোম্পানিকে বিক্রি করে বিপুল অর্থ আয় করবে ফিফা। সেই বেসরকারি সংস্থার মাথায় আবার রয়েছেন জোন্ডার কুশনার। যিনি সম্পর্কে ট্রাম্পের জামাতা জেরার্ড কুশনারের সহোদর। আর এই সিদ্ধান্তেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে ফুটবল বিশ্বে।
ফিফার অধীনে থাকা একটার পর একটা মহাদেশীয় সংস্থা রীতিমতো হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইনফান্তিনোকে। এফএফই তৈরি করা হলে ফিফার প্রতিযোগিতা থেকেই নাম তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেয় বড় বড় সংস্থাগুলি। শেষে বাধ্য হয়েই ওই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হল ফিফা।
