মাঠ দাপিয়ে ফুটবল খেলবেন-একটা সময়ে দু'চোখ ভরে এই স্বপ্নটাই দেখতেন। কিন্তু চুঁচুড়ার ফুলপুকুরের স্নেহাংশু দত্তের স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গিয়েছে-বাস্তব হয়নি। চোখে হাই পাওয়ারের চশমা আর পড়াশোনার চাপ-ফুটবল চলে গিয়েছে জীবনের পিছনের সারিতে। তবে এবার ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে অংশ নিতে চলেছেন তিনি। থাকবেন মার্কিন মুলুকে। কিন্তু কীভাবে?
আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। সেই মহাযজ্ঞের অংশ হতে চলেছেন হুগলির স্নেহাংশু দত্ত। ফিফার ভলান্টিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, ফিফা বিশ্বকাপের সঙ্গে এভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত। তবে ফিফা ভলান্টিয়ার নির্বাচিত হওয়ার খবরটা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। জানিয়েছেন, এমন সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। কবে সেই মুহূর্ত আসবে এখন তারই দিন গুনছেন তিনি। এত দিন টিভির পর্দায় যাঁদের খেলা দেখেছেন তাঁদের এ বার চোখে সামনে দেখতে পাবেন।
স্বপ্নপূরণের পথটা কেমন ছিল? আসলে পেশায় আইটি কর্মী স্নেহাংশু বর্তমানে থাকেন আমেরিকার টেক্সাসের ডালাসে। কর্মসূত্রে গত বছর চুঁচুড়া থেকে সেখানে যান তিনি। তাঁর স্ত্রীও আইটি সেক্টরেই কর্মরত। এবারের বিশ্বকাপ মার্কিন মুলুকে, সেকথা মাথায় রেখে গত অক্টোবরে ফিফা ভলান্টিয়ার প্রোগ্রামে অনলাইনে আবেদন করেন। সারা বিশ্ব থেকে জমা পড়ে ১০ লক্ষের বেশি আবেদনপত্র। কয়েক দফা ইন্টারভিউ ও বাছাই পর্বের পর চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পান মাত্র ৬০০০ জন। সেই তালিকায় নাম আছে চুঁচুড়ার এই যুবকেরও।
বিশ্বকাপ ৬ থেকে ৮টি ম্যাচে ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন স্নেহাংশু। বাংলার ছেলে হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়াবেন এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা। স্নেহাংশু নিজে লিওনেল মেসির অন্ধভক্ত। যদিও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা শুরু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে দেখে। তিনি বলেন, "মেসি যখন কলকাতা এসেছিলেন তখন আমি বাইরে। দেখা না হওয়ায় একটা আক্ষেপ ছিল। সেই আক্ষেপ এ বার মিটতে চলেছে। মেসি, রোনাল্ডো সহ বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা খেলবেন। সামনে থেকে তাঁদের খেলা দেখব এটা ভাবতেই অন্য অনুভূতি হচ্ছে।"
