ফুটবল বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। তার আগে ইরান দলকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মাঝেই দেশের তারকা ফুটবলার সারদার আজমুনকে প্রাথমিক দল থেকে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে সমর্থকদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ফুটবল নয়, বরং রাজনীতি কাজ করেছে।
ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই ৩০ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করলেও সেখানে জায়গা হয়নি আজমুনের। অথচ তিনি দেশের অন্যতম সফল গোলদাতা। মাত্র ৯১টি ম্যাচে করেছেন ৫৭টি গোল। ইউরোপের বড় ক্লাব যেমন বায়ার লেভারকুসেন, এএস রোমা এবং জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এই সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নেয়। ইরানের রাজনীতিবিদ আবদোলকরিম হোসেনজাদেহ প্রকাশ্যে কোচের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আজমুনকে দলে ফেরানোর কথা ভেবে দেখার জন্য। তিনি একে জাতীয় সংহতির প্রশ্ন বলেও উল্লেখ করেছেন।
তিনি শেষবার ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের হয়ে খেলেছিলেন। অতীতে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মাহসা আমিনি প্রতিবাদের সময় মহিলা আন্দোলনকারীদের সমর্থন করায় তিনি বিতর্কে জড়ান। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, এর ফলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তিনি নিজের অবস্থান বদলাবেন না।
ইরানে ২০২২ সালের মাহসা আমিনি প্রোটেস্টসের জেরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় ইনস্টাগ্রামে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে আজমুন লেখেন, 'সবচেয়ে খারাপ হলে আমাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তাতে সমস্যা নেই। ইরানি নারীদের সম্মানের জন্য আমি সেই ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।' পাশাপাশি তিনি হিংসার কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই বার্তা মুছে ফেলা হবে না। নারীদের প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। সম্প্রতি দুবাইয়ের শাসক মহম্মদ বিন রশিদ আল মকতুমের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎও ইরান সরকারের কাছে ভালোভাবে নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ইরান দলের এই নির্বাচন ঘিরে ক্রীড়া ও রাজনীতির সংঘাত আবারও সামনে এসে পড়েছে।
