২১ বছর অপেক্ষা! তার পর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা এশিয়ান কাপে খেলতে নেমেছে ভারত। দু'দশকের বেশি প্রতীক্ষার পর ইতিহাস লিখল ভারতের কিশোরীরা। শুক্রবার চিনের সুজৌতে লেবাননকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারতীয় জুনিয়র মহিলা ফুটবল দল। একই সঙ্গে খুলে গেল ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপে ওঠার সম্ভাবনাও।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের সামনে সমীকরণ ছিল স্পষ্ট। লেবাননকে হারাতেই হবে, পাশাপাশি নজর রাখতে হবে গোল পার্থক্যের লড়াইয়েও। সেই পরীক্ষায় দুরন্ত সাফল্য পেল পামেলা কন্তির দল। ম্যাচের নায়িকা বাংলার প্রীতিকা বর্মন। জোড়া গোল করে জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। একটি করে গোল করেন আলভা দেবী সেঞ্জাম এবং জয়া।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় ‘ইয়ং ব্লু টাইগ্রেস’-দের। আগের দুই ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ সময় রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকলেও, লেবাননের বিরুদ্ধে অন্য রূপে দেখা যায় ভারতকে। বল পায়ে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসী দেখায় ভারতীয় দলকে। দুর্দান্ত প্রেসিং ফুটবল খেলতে থাকে তারা। প্রতিপক্ষ লেবাননের থেকে ধারেভারে এগিয়ে ছিল ভারতীয় কিশোরীরা। প্রতিপক্ষের উপর শুরু থেকেই চাপ বজায় রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে তারা। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিল ভারত।
দুরন্ত জয়ের পর ভারতের নজর ছিল গ্রুপ সি-র ফিলিপিন্স বনাম চাইনিজ তাইপে ম্যাচের দিকে। দুই দলের গোল পার্থক্য ছিল যথাক্রমে -১৩ এবং -১৪। ফলে শেষ চারে উঠতে গেলে যে কোনও এক দলকে বড় ব্যবধানে জিততেই হত। কিন্তু ম্যাচটি ড্র হওয়ায় ভারতের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে যায়। এর ফলে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা ফুটবল দল।
২০০৫ সালের পর এই প্রথম এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা এশিয়ান কাপে খেলছে ভারত। আর প্রত্যাবর্তনের আসরেই শেষ আটে জায়গা করে নিল তারা। উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্টে ভারতের শেষ জয় এসেছিল ২০০৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে। যদিও সেবার একটি ম্যাচ জিতেও বাকি দুই ম্যাচে হারায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলকে। এবার সেই হতাশা কাটিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছে ভারত। আগামী ১১ মে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শক্তিশালী চিনের মুখোমুখি হবে ভারতীয় কিশোরীরা। সেই ম্যাচ হারাতে পারলেই বিশ্বকাপের দরজা খুলে যাবে ‘ইয়ং ব্লু টাইগ্রেস’-দের সামনে।
