মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের মতো সৌদি আরবও পুড়ছে যুদ্ধের আগুনে। ইরানে একযোগে হামলা করছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। পালটা দিচ্ছে তেহরানও। জানা গিয়েছে, সৌদি আরবেও লাগাতার বিস্ফোরণ এবং হামলার শব্দ শোনা গিয়েছে। তারপর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের প্রশ্ন ক্রিশ্চিয়ানো রোনল্ডোকে নিয়ে। কারণ আল নাসেরের হয়ে খেলা কিংবদন্তি ফুটবলার এখন রয়েছেন সৌদির রাজধানী রিয়াধে। সেখানেই একের পর এক বোমাবর্ষণের আওয়াজ শোনা গিয়েছে বলে খবর।
শনিবার সকাল থেকে যুদ্ধ চলছে আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে। সেদিন সন্ধেয় মাঠে নেমেছিলেন রোনাল্ডো। ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন। তবে তারপরেও ৫-১ গোলে জিতেছে আল নাসের। কিন্তু যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সৌদি আরবে। সোশাল মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, সৌদির রাজধানী রিয়াধে একের পর এক বোমা পড়ার আওয়াজ শোনা গিয়েছে। সেখান থেকেই ফুটবলভক্তদের প্রশ্ন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কোথায়? পর্তুগিজ মহাতারকা নিরাপদে রয়েছেন তো?
সেই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব মেলেনি। রোনাল্ডো এই নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কিছু বলেননি। তবে সূত্রের খবর, রিয়াধেই আটকে রয়েছেন রোনাল্ডো এবং আল নাসেরের অন্যান্য ফুটবলাররা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আল নাসেরের আসন্ন বেশ কয়েকটি ম্যাচ বাতিল হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। এহেন পরিস্থিতিতে রোনাল্ডোকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল বিশ্বের একাধিক দেশ। সৌদি আরবের জনতাও শামিল হয়েছে বিক্ষোভে।
অন্যদিকে, চলতি বছর জুন মাসে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু এই যুদ্ধের জেরে সেই বিশ্বকাপ নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেবে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ইরান ফুটবল সংস্থার এক কর্তার মতে, আমেরিকায় গিয়ে তাঁরা বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন। কিছুদিন আগে ‘এল মেনচো’কে হত্যার প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল মেক্সিকো। তাই প্রশ্ন উঠেছিল, বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার হারাবে না তো লাতিন আমেরিকার দেশটি? সবমিলিয়ে ফুটবল বিশ্বে প্রবল অনিশ্চয়তা।
