এডমুন্ডের গোলটা হতেই প্রায় একশো মিটার স্প্রিন্ট টেনে তাঁর দিকে ছুটে গেলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। তারপর লাফিয়ে উঠলেন এডমুন্ডকে দেখেই। ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি তখন রীতিমতো ফুটছে। আর হবেই না কেন। ম্যাচ শেষের দিকে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ঘড়ির কাঁটা।
তার কিছুক্ষণের মধ্যেই কামিংসের গোলে মোহনবাগান সমতায় ফিরলেও ততক্ষণে অস্কার বুঝে গিয়েছেন রক্ষণ আঁটসাঁট করে ড্র করে ফেলতে পারলেই লিগ (ISL 2026) জয়ের আরও কাছে চলে যেতে পারবে তাঁরা। সেই মতোই পরিকল্পনা করে ম্যাচ শেষ করলেন। যদিও তিনি এখনও মনে করছেন লিগ ওপেন আছে। কিন্তু মুখে যতই বলুন না কেন লিগ ওপেন। ডার্বি শেষ করেই অস্কারের মুখে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আসছে পরবর্তী ইন্টার কাশী ম্যাচ প্রসঙ্গ। ম্যাচ শেষে বলেন, “এখানে জিততে চেয়েছিলাম। আশা করি বৃহস্পতিবার নিজেদের সেরাটা দিয়ে এই বছর স্বপ্নপূরণের মাধ্যমে শেষ করব। ওখানেও প্রচুর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা আসবে। আমরা ওই স্টেডিয়ামে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।”
ম্যাকলারেনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন শুভাশিস। একই ফ্রেমে ইস্টবেঙ্গলের রশিদও। নিজস্ব চিত্র।
এই নিয়ে টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত রইলেন মিগুয়েল ফিগুয়েরারা। এগিয়ে গিয়েও ড্র করে হতাশ নন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মহম্মদ রশিদ। অনেকেই মনে করছেন ড্র করে শেষ ম্যাচে কিছুটা হলেও চাপে রইল লাল-হলুদ ব্রিগেড। তবে তিনি তা মনে করছেন না। এদিন রশিদ বলেন, “চাপ কিছুই নয়, শেষ ম্যাচ জিতলে চ্যাম্পিয়ন হব এটাই আমাদের মোটিভেশন বাড়িয়ে দিয়েছে। স্বপ্নপূরণের কাছে পৌঁছে গেলাম। সমর্থকদের জন্য আমাদের খেতাব জিততে হবে।”
বহু বছর পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল। কর্তারা খুশি হলেও তারথেকেও এক ম্যাচ আগে দাঁড়িয়ে যথেষ্টই সতর্ক। এদিন ডার্বি জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে চেয়েছিলেন লাল-হলুদ কর্তা দেবব্রত সরকার। কিন্তু ম্যাচ ড্র হওয়ায় তিনি কিছুটা হতাশ। এদিন দেবব্রত বলেন, “আইএসএলের জয়ের কাছে আরও যেতাম সেটা নিয়ে ভাবছি না, আফসোস এই ম্যাচটা জিততে পারলাম না। বড় ম্যাচ সবসময় পঞ্চাশ পঞ্চাশ থাকে। এই ম্যাচে জিতলে চ্যাম্পিয়নশিপের বিষয়টা চূড়ান্ত হয়ে যেত। যেটা হয়নি সেটা নিয়ে আর ভাবতে চাই না।” আপাতত ডার্বির আবহ কাটিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার কাশী ম্যাচের দিকে ফোকাস শুরু ইস্টবেঙ্গলের। সেই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের কাঁটা হতে পারেন ক্লাবের প্রাক্তনী তথা কাশীর ‘স্টপগ্যাপ’ কোচ অভিজিৎ মণ্ডল। যাঁর কোচিংয়ে মোহনবাগানকে আটকে দিয়েছিল ইন্টার কাশী।
এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দুরন্তভাবে গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরে এসেছিল মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন কোচ সের্জিও লোবেরা থেকে সমর্থকরা সবাই একবাক্যে বলছেন শেষ মুহূর্তে যদি জেমি ম্যাকলারেন গোলটি করে ফেলতে পারতেন, তাহলে ম্যাচের তিন পয়েন্ট লেখা হয়ে যেত তাদের নামে। কিন্তু ভাগ্যদেবী সহায় ছিল না এদিন। যদিও মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্তের দাবি, একটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা। এখনও একটি ম্যাচ বাকি। এমন পরিস্থিতিতে কঠিন হলেও লিগ পুরোপুরি হাতের বাইরে যায়নি, মনে করছেন শুভাশিসরা।
নিজস্ব চিত্র।
ম্যাচ শেষে একটু হলেও হতাশ মোহনবাগান অধিনায়ক। শুভাশিস বলেন, “দল ভালো লড়াই করেছে। শেষ মুহূর্তেও গোল করতে পারতাম। সিজনের শেষ ম্যাচ বাকি রয়েছে। ওই ম্যাচটা বড় ব্যবধানে জিততে হবে। সবাই জানত এই ম্যাচটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সবাই নিজের সেরাটা দিয়েছিল। যদি ওরা পয়েন্ট হারায়, তাহলে আমরাও চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। আমরা যদি বেশি ব্যবধানে জিততে পারি তাহলে আমরাও চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। সেটাই ফোকাস থাকবে।"
এদিন ডার্বি জিতে সদ্য প্রয়াত প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি স্বপনসাধন (টুটু) বোসকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস বোস। এদিন তিনি এই বিষয়ে আরও বলেন, “টুটুবাবু মোহনবাগান ক্লাবের জন্য যা করে গিয়েছেন, সেই তুলনায় আমরা যাই করি সেটা ওঁর জন্য কম হবে। ভেবেছিলাম, এই ডার্বিটা জিতে টুটুবাবুকে উৎসর্গ করব। সেটা হল না। যদি লিগটা জিততে পারি তাহলে সেটা ওঁর জন্য উৎসর্গ করব।”
খেলা দেখতে এসেছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কাও। তিনিও জয় দেখে যেতে পারলেন না। ড্র হলেও মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা মনে করছেন ভালো চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তাঁর ছেলেরা। তিনি বলেন, “ম্যাকলারেন যদি ওই গোলটা করে ফেলত, তাহলে এখন অন্যরকম কথা বলা হত।” মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, “ম্যাকলারেনের বলটা গোলকিপারের পায়ে না লাগলে ফল অন্যরকম হত। এখনও একটা ম্যাচ বাকি রয়েছে। আশা করব ইন্টার কাশী সেই ম্যাচটা পুরোদমে খেলবে। সেখানে অন্যকিছু হবে না। আমার মনে হয় আমাদের একটা পেনাল্টি ছিল। সেটা পাওয়া যায়নি। এই মরশুমে মনে হয় আইএসএলে মোহনবাগানকে পেনাল্টি দেবে না।”
