shono
Advertisement
Mohun Bagan

টানটান ম্যাচ! পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে দু'বার পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত জয় মোহনবাগানের

খেতাবি লড়াইয়ে তাল ঠুকছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 09:34 PM Apr 12, 2026Updated: 12:44 AM Apr 13, 2026

মোহনবাগান ৩ (জেমি, সামাদ, কামিন্স)
পাঞ্জাব ২ (ড্যানি, এফিয়ং)

Advertisement

পেণ্ডুলামের মতো দুলতে থাকা একটা ম্যাচ! মোহনবাগান বনাম পাঞ্জাব এফসির দ্বৈরথ দেখতে দেখতে এ কথাই বলতে হয়। ৯০ মিনিটের প্রতিটা ছত্রে ছত্রে রোমাঞ্চ। পাঁচ-পাঁচটা গোল। দু-দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে দুরন্ত জয় সবুজ-মেরুনের। সব মিলিয়ে রোববার পয়সা উসুল ম্যাচ দেখে বাড়ি ফিরবেন বাগান সমর্থকরা। 

গত তিন ম্যাচ মোহনবাগানের জন্য খুবই খারাপ গিয়েছে। এর মধ্যে একটি হার ও দু’টি ড্র। পয়েন্ট এসেছিল মাত্র দুই। পাঞ্জাব এফসি’র মতো আক্রমণাত্মক ফুটবল নির্ভর দলের বিরুদ্ধে কেমন খেলে সার্জিও লোবেরার দল, সেটাও দেখার ছিল। নাটকীয়তায় ভরপুর লড়াইয়ের অবশেষে স্বস্তির হাসি ফুটল সবুজ-মেরুন শিবিরে। তবে জয় নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল। গোটা ম্যাচ জুড়ে গ্যালারিতে ছিল টানটান উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা। বাড়ল ফিসফাসও। চৈত্রের শেষ বেলায় যুবভারতীর এমন রুদ্ধশ্বাস ফুটবলের মহিমায় দর্শকদের শরীরে বাড়ল অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা।

বলে দেওয়া যাক, এই ম্যাচটির জন্য প্রথমে পুলিশি নিরাপত্তা পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা গিয়েছিল। পরে অনুমতি মিললেও দর্শকসংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয় মাত্র ১৭ হাজারে। সেই অনুযায়ী রবিবারের ম্যাচের জন্য সীমিত সংখ্যক টিকিটই ছাড়া হয়। তবুও সমর্থকদের উন্মাদনায় ভাটা পড়েনি। দলে দলে মেরিনার্সরা ভিড় জমিয়েছিলেন গ্যালারিতে। এরই মধ্যে সঙ্গীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতির খবরও ছুঁয়ে যায় স্টেডিয়ামের আবহ। রবি-দুপুরে প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলেকে যুবভারতীর জায়ান্ট স্ক্রিনে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তবে আবেগঘন সেই পরিবেশে ম্যাচের শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি মোহনবাগানের।

১২ মিনিটে এগিয়ে গেল পাঞ্জাব। বাঁদিক আক্রমণে ঝড় তুলে সুফল পেল পাঞ্জাব। বাগান ডিফেন্সের ফাঁককে কাজে লাগিয়ে গোলের সামনে বল পেয়ে যান ড্যানি রামিরেজ। প্রায় ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দিতে কোনও ভুল করেননি তিনি। পিছিয়ে থাকার মিনিটের পাঁচেকের মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল সবুজ-মেরুন। ১৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ডিফেন্ডার আলবার্তো রডরিগেজ। তবে ২৯ মিনিটে অনবদ্য কামব্যাক মোহনবাগানের। বাঁদিক থেকে রবসনের ফ্লিক চলে যায় জেমি ম্যাকলারেনের কাছে। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুরন্ত শটে গোল করেন অজি বিশ্বকাপার। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময় দিমি পেত্রাতোসের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। প্রথমার্ধে ম্যাচের ফলাফল থাকে ১-১।

দ্বিতীয়ার্ধ ছিল আরও নাটকীয়তায় ভরা। সময় যত গড়ায়, দর্শকদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। ৬০ মিনিটে দুরন্ত ভলিতে পাঞ্জাবকে এগিয়ে দেন এফিয়ং। ৬৯ মিনিটে কৌশল বদল করেন লোবেরা। রবসনকে তুলে মাঠে নামান আবদুল সামাদ, সঙ্গে আসেন জেসন কামিন্সও। গোল শোধের লক্ষ্যে তখন মরিয়া মোহনবাগান। তারই ফল মেলে ৭৪ মিনিটে। বদলি হিসাবে নামা সামাদ ডান পায়ের নিখুঁত ইনসেটে নেওয়া শটে বিশ্বমানের গোল করে সমতা ফেরান সবুজ-মেরুন শিবিরে। ৭৯ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত পাঞ্জাব। পরিত্রাতা ছিলেন বিশাল কাইথ। তবে তখনও ম্যাচের 'আসলি টুইস্ট' বাকি। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময়ে বক্সের ডান দিক থেকে ফ্রিকিক পায় মোহনবাগান। শট নিতে এগিয়ে আসেন কামিন্স। তাঁর নেওয়া শট পাঞ্জাবের গোলমুখে ভেসে উঠতেই প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা সেটি আটকাতে লাফিয়ে ওঠেন। কিন্তু বলের ফ্লাইট বুঝতে ব্যর্থ হন সকলেই। শেষ পর্যন্ত কারও স্পর্শ ছাড়াই সরাসরি জালে জড়িয়ে যায় বলটি।

রুদ্ধশ্বাস জয় দু'নম্বরে উঠে এল মোহনবাগান। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই পয়েন্ট তালিকায় সবুজ-মেরুনকে টপকে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারল না লাল-হলুদ শিবির। দারুণ জয়ের সুবাদে ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে ফের চিরপ্রতিবন্ধীদের পিছনে ফেলে খেতাবি লড়াইয়ে এগিয়ে গেল সবুজ-মেরুন। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মুম্বই সিটি এফসি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement