মহম্মদ রশিদকে নিয়ে চেন্নাই যাওয়া হবে কি না তা নিয়ে বৃহস্পতিবার যথেষ্টই ধোঁয়াশায় রেখেছিলেন অস্মর ব্রুজো। শনিবার সকালে অনুশীলনে তাঁকে দেখেন লাল-হলুদ কোচ। তার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাঁকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়ার। তবে চোট সারিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা রশিদকে শনিবার চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে রাখার সম্ভাবনা খুবই কম।
ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকে যাওয়ার আগে মহামেডানকে সাত গোল দিলেও এই পর্বে বেশ কয়েকদিন ছুটি থাকায় অস্কারের চিন্তা দলের ফোকাস ধরে রাখা। আপাতত লিগ টেবিলের দ্বাদশ স্থানে থাকা চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধেও যথেষ্টই সতর্ক অস্কার। তবে লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য খুশির খবর কেভিন সিবিলের সুস্থ হয়ে ওঠা। রক্ষণে আনোয়ার-কেভিন জুটি শুরু করতে পারেন প্রথম একাদশে। দুই সাইডব্যাক হিসাবে থাকতে পারেন জয় গুপ্ত ও রাকিপ। আনোয়ারদের একটু সামনে রশিদ খেলতে না পারলে তার পরিবর্তে জিকসান সিংকে শুরু থেকে খেলাতে পারেন অস্কার। সেক্ষেত্রে পরিবর্ত হিসাবে রশিদকে আনতে পারেন তিনি। দুই প্রান্তে বিপিন ও এডমুন্ড। মাঝখানে সাউল, মিগুয়েল। রশিদ যদি প্রথম একাদশে থাকেন তাহলে মাঝমাঠ থেকে এক বিদেশিকে বসতে হবে। সামনে আজেজারি। বৃহস্পতিবার মুম্বই সিটি এফসি-জামশেদপুর এফসি ম্যাচ ড্র হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে লাল হলুদ কোচও। তার কারণ, উপরের দিকে থাকা দলগুলো ড্র করলে সুবিধা ইস্টবেঙ্গলেরও। চেন্নাইয়িন ম্যাচ নিয়ে লাল-হলুদ কোচ অস্কার বলেন, "ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকের আগে আমরা কিছু সমস্যার মধ্যে ছিলাম, বিশেষ করে চোট-আঘাত নিয়ে। তবে এখন দল আবার ছন্দে ফিরছে, ধীরে ধীরে সবাই ফিরছে। আমরা পুরোপুরিভাবে আগামী সাতটি ম্যাচে সর্বোচ্চ দেওয়ার জন্য তৈরি আছি। একই সঙ্গে লিগের শীর্ষস্থানগুলোর মধ্যে থাকার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি।"
প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে আরও যোগ করেন, "চেন্নাইয়ে ম্যাচটি খুবই কঠিন হতে চলেছে। ওরা বর্তমানে কিছুটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেটাই ওদের সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামতে সাহায্য করবে। সুপার কাপে আমাদের বিরুদ্ধে হারের পর তারা অবশ্যই এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। তাই আমাদের একটি কঠিন লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে।"
ইন্টারন্যশনাল ব্রেক দলের ফোকাস নড়িয়ে দিতে পারে। এই জন্য সতর্কতা অবলম্বন করলেও এই বিরতিতে বেশ কিছু ফুটবলারের চোট সারাতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন লাল-হলুদ কোচ। তিনি বলেন, "আমি শুধু বলতে পারি, মানসিকভাবে এই বিরতিটা আমাদের জন্য খুবই দরকার ছিল। আমরা গত জুলাই থেকে টানা অনুশীলন করে আসছি, তাই এই মানসিক বিশ্রামটা খুব দরকার ছিল। একই সঙ্গে আমরা এই সময়টা কাজে লাগিয়েছি শারীরিক প্রস্তুতি বাড়াতে এবং আগামী ছয় থেকে সাত সপ্তাহের প্রতিযোগিতার জন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করতে।" চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে জিততে পারলে লিগ টেবিলের আরও উপরে উঠে আসবে ইস্টবেঙ্গল। আগামী সাতটি ম্যাচকে এক-একটি ফাইনাল হিসাবে দেখছেন অস্কার। এমন পরিস্থিতিতে আর পয়েন্ট নষ্ট করতে চান না তিনি।
