প্রয়াত ইটালি ও এসি মিলানের কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি। বয়স হয়েছিল মাত্র ৬৬ বছর। ইটালির হয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপ জেতেন বারেসি। আট ও নয়ের দশকে মিলানের হয়ে তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) ও ছ'টি ইটালিয়ান লিগ শিরোপাও জেতেন। অনেকের কাছে বারেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছে এসি মিলান। কীভাবে বা কোন রোগে বারেসি প্রয়াত হলেন, তা এখনও জানা যায়নি। কিংবদন্তি ডিফেন্ডারের মৃত্যুসংবাদে শোকস্তব্ধ ফুটবলদুনিয়া।
১৯৬০ সালে জন্ম বারেসির। ১৯৭৭ সালে এসি মিলানে কেরিয়ার শুরু। দীর্ঘ ২০ বছরের কেরিয়ারে শুধু সেই ক্লাবেই খেলেছেন তাদের 'কাপিতানো'। লাল-কালো জার্সিতে ৫৩২টি ম্যাচ খেলেছেন। গোলও আছে ১৬টি। ইটালির হয়ে ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৮২-এ ইটালির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হলেও খেলার সুযোগ পাননি। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপে ইটালি দলের অধিনায়ক ছিলেন। যেখানে ফাইনালে টাইব্রেকারে ব্রাজিলের কাছে হারে আজ্জুরিরা। সেই ম্যাচে রবার্তো বাজ্জিওর টাইব্রেকার মিস সবার মনে আছে। তবে প্রথম পেনাল্টি মিস করেন বারেসিই।
মাত্র ২২ বছর বয়সেই এসি মিলানের অধিনায়ক হন। দুর্দান্ত টেকনিক, প্রতিপক্ষের ছক আগেই বোঝার ক্ষমতা ও নিখুঁত ট্যাকলিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের জন্য কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। মিলানে প্রথমে তাঁকে ডাকা হত 'পিসকিনিন' (লিটল ওয়ান)। পরে জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের সঙ্গে মিল রেখে তাঁকে ডাকা হত 'কাইজার ফ্রাঞ্জ' নামে। কেরিয়ারের গোধূলি লগ্নেও তরুণ পাওলো মালদিনি, আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তোদের সঙ্গে জুটি বেঁধে রক্ষণভাগে সামলাতেন।
বারেসির মৃত্যুর কোনও কারণ জানানো হয়নি। ফুসফুসের টিউমার সরানোর জন্য একবছর আগে একটি অস্ত্রোপচার হয়। তারপর থেকে আর সেভাবে প্রকাশ্যে আসতেন না। কিছুদিন আগে বারেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। তখন এসি মিলানের তরফ থেকে সেই গুজব উড়িয়ে দেওয়া হয়। এবার আর গুজব নয়, সত্যিই না ফেরার দেশে ইটালির কিংবদন্তি।
