আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ বড় মঞ্চ হিসাবে ধরা হচ্ছে। গতবার তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার 'লাস্ট ডান্স'-এর অপেক্ষায় ভক্তরা। তবে বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল তাঁর নাম। ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ৬৫ কোটি ৩০ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা) চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে এলএম১০-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে মায়ামির এক ইভেন্ট প্রোমোটার 'ভিড মিউজিক গ্রুপ'-এর পক্ষ থেকে।
অভিযোগ, টাকা নিয়েও গত মরশুমে নির্ধারিত ম্যাচে খেলেননি মেসি। সেই কারণেই এই আইনি পদক্ষেপ। চুক্তিতে আরও উল্লেখ ছিল, চোট না থাকলে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট করে মেসিকে মাঠে থাকতে হবে। ম্যাচ দু'টি ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে হওয়ার কথা ছিল। এই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে আদালতে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরাহিমানও।
মায়ামি ডেড কাউন্টি সার্কিট কোর্টে গত মাসে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে মামলা করেছে 'ভিড মিউজিক গ্রুপ' নামে এক ইভেন্ট সংস্থা। অভিযোগ, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দু'টি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন ও প্রচারের একচেটিয়া স্বত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই সংস্থাকে। চুক্তি অনুযায়ী টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ থেকে বড় অঙ্কের আয় হওয়ার কথা ছিল তাদের।
১০ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি খেলেননি। এরপরের দিনই তিনি ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমে দু’টি গোল করেন। ফলে চোটের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তবে ১০ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি খেলেননি। এরপরের দিনই তিনি ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমে দু'টি গোল করেন। ফলে চোটের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে ১৪ অক্টোবর পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ম্যাচে মেসি খেলেন। ম্যাচটি প্রথমে শিকাগোতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কম টিকিট বিক্রি ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে ম্যাচটি পরে ফ্লোরিডায় স্থানান্তর করা হয়।
আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থার দাবি, ভেন্যু পরিবর্তনের কারণে ফ্লোরিডার ছোট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি পুরোপুরি হাউসফুল হয়নি। টিকিটের দাম কমিয়ে ২৫ ডলার করা হলেও প্রত্যাশিত দর্শক টানতে ব্যর্থ হয় আয়োজকরা। এদিকে ভিড মিউজিক গ্রুপের অভিযোগ, একটি ম্যাচে মেসির অনুপস্থিতি এবং অন্য ম্যাচে প্রত্যাশিত দর্শক না পাওয়ার কারণে তাদের কয়েক মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। যদিও কত টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি সংস্থাটি। এই বিষয়ে এখনও মেসি বা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
