ম্যাচ খেলে ফিরছিল দল। সেই সময়ই গাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দলের আক্রমণ। পালিয়েও বাঁচতে পারলেন না ঘানার ফুটবলার। ঘানার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বেরেকুম চেলসির উইঙ্গার ডমিনিক ফ্রিমপংয়ের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া ফুটবল মহলে। ঘানার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০ বছর বয়সি ফুটবলারকে অনেকেই ঘানার ভবিষ্যৎ তারকা বলে মনে করছিলেন।
ঘানার দক্ষিণ অঞ্চলের শহর সামরেবোইয়েতে সামারটেক্সের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ফিরছিল বেরেকুম চেলসি। ফেরার পথে গোয়াসো-বিবিয়ানি সড়কে ডাকাত দলের কবলে পড়ে তাদের বাস। ডাকাতরা রাস্তা আটকে দিতেই চালক বাসটি পিছনোর চেষ্টা করে। সেই সময় মুখোশধারী ডাকাতরা রাইফেল থেকে বাস লক্ষ্য এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে খেলোয়াড় ও স্টাফরা নেমে পাশের ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় ডাকাতদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ফ্রিমপং। পরে হাসপাতালে যাওয়ার সময় প্রাণ হারান। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
ঘানার ফুটবলে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০২৩ সালেও এই সামারটেক্সের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ফেরার পথে লেগন সিটিসের বাসে হামলা চালিয়েছিল ডাকাতরা। সেই যাত্রায় কেউ হতাহত হননি। এবার প্রাণ গেল ফ্রিমপংয়ের। তারপরই হুঁশ ফিরেছে ঘানা ফুটবল সংস্থার। তারা জানিয়েছে, ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ম্যাচ খেলতে যাতায়াতের সময় ক্লাবগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
আদুনা স্টার্সের হয়ে কেরিয়ার শুরু হয় ফ্রিমপংয়ের। সেখান থেকে লোনে চলে আসেন বেরুকুম চেলসিতে। বিশ্বকাপের দলেও ফ্রিমপং সুযোগ পেতে পারতেন বলে অনেকে মনে করছিলেন। বিশ্বকাপে ঘানা 'এল' গ্রুপে আছে। তাদের গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও পানামা। ঘানার ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, ‘ডমিনিক ফ্রিমপংয়ের মৃত্যু শুধু বেরেকুম চেলসির জন্যই নয়, পুরো ঘানা ফুটবলের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। ডমিনিক এক উজ্জ্বল প্রতিভা ছিলেন; ফুটবলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও আবেগ ছিল আমাদের লিগের প্রাণশক্তি।’
