সমলেশ্বরী: ৩ (বাসিত, তারেক, বীর অরুণ)
মহামেডান: ২ (লালথানকিমা, লালনাইহসাকা)
১৩৫তম ডুরান্ড কাপের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। এফসি বেনারসকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে অভিযান শুরু করেছিল মহমেডান স্পোর্টিং। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে নজর কেড়েছিলেন লালরেমসাঙ্গা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ধার আর দেখা গেল না। রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে 'অনামী' ওড়িশার সমলেশ্বরী স্পোর্টিংয়ের কাছে ২-৩ গোলে হার মানতে হল সাদা-কালো ব্রিগেডকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই মহমেডানকে চাপে ফেলে সমলেশ্বরী। ১১ মিনিটেই বাসিত আহমেদ ভাটের গোলে এগিয়ে যায় ওড়িশার দল। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মারাট তারেক। মাঝেমধ্যে বিপক্ষের রক্ষণে হানা দিলেও ব্যবধান কমাতে পারেনি মহামেডান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় মহমেডান। ৬০ মিনিটে লালথানকিমা ব্যবধান কমানোর পর ৬৬ মিনিটে লালনাইহসাকা লালনুনতলুয়াঙ্গার গোলে সমতা ফেরে 'ব্ল্যাক প্যান্থার্স'। নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। তবে শেষ হাসি হাসে সমলেশ্বরীই। ৮১ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে বীর অরুণ যোশির অনবদ্য গোলে এগিয়ে যায় ওড়িশার দল। বাকি সময়ে একাধিক আক্রমণ শানিয়েও সমতা ফেরাতে পারেনি মহমেডান। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের হেরে মাঠ ছাড়তে হয় সাদা-কালো শিবিরকে।
হেরে গেলেও বল পজিশনে এগিয়ে ছিল মহামেডান। ৬৩ শতাংশ বল দখলে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ শানিয়ে তারা ২৮টি গোলমুখী শট নেয়। যার মধ্যে ১১টি ছিল লক্ষ্যে। পাশাপাশি ১৮টি গোলের সুযোগ তৈরি করে সাদা-কালো ব্রিগেড। গোটা ম্যাচে ১৬টি কর্নার আদায় করে প্রতিপক্ষের উপর লাগাতার চাপ বজায় রাখেন কিমা, সাকারা। পাশাপাশি সমলেশ্বরী স্পোর্টিংয় গোলমুখী শট নিয়েছে ১০টি। এরমধ্যে ৪টি অন-টার্গেট। পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থাকলেও গোলে রূপান্তরের দিক থেকে ওড়িশার দল টেক্কা দেয় মহামেডানকে। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। প্রথম ম্যাচের দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হোঁচট খেয়ে ডুরান্ড কাপে মহামেডান নিজেদের রাস্তা কঠিন করে ফেলল।
