কথা দিয়েছিলেন, ক্লাবের আর্থিক সংকট মেটাবেন। সেই প্রতিশ্রুতির 'বিনিময়ে' সভাপতির কুর্সিতে বসে পড়েন। কিন্তু হুমায়ুন কবীরের কাজে এবার তিতিবিরক্ত মহামেডান কর্তারা। দিনকয়েক আগেই শোনা গিয়েছিল হুমায়ুনের সই করা চেক বাউন্স হয়েছে। সেটা একবার নয়, টানা তিনবার। গোটা ঘটনায় মহামেডান কর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অবশেষে আইনি নোটিস পাঠানো হল নওদার বিধায়ককে।
সোমবার হুমায়ুনকে পাঠানো নোটিসের সারমর্ম হল, বিধায়কের সই করা চেক থেকে অর্থ মেলেনি। এহেন আচরণের পর ক্লাবের প্রতি হুমায়ুনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই অসৎ উদ্দেশ্যটা আইনত শাস্তিযোগ্য। তবে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ককে এখনও সময় দিয়েছে মহামেডান শিবির। নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুতিমতো অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে হুমায়ুনকে। সেটা না হলে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি মামলা দায়ের হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে হুমায়ুনকে।
উল্লেখ্য, বাংলায় পালাবদলের পরই ঢেলে সাজানো হয় মহামেডান ম্যানেজমেন্ট। ক্লাবের সভাপতি পদে বসেন নওদা এবং রেজিনগরের বিধায়ক। দায়িত্ব পেয়েই তিনি বলেছিলেন ক্লাবের ১৩ কোটি টাকার দেনা মেটাতে সাহায্য করবেন। তারপরই শুরু চেক বাউন্স পর্ব। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মোট দেড় কোটি টাকার চেক দিয়েছেন নওদার বিধায়ক। কিন্তু তিনবার সেই চেক বাউন্স করেছে। তা সত্ত্বেও ক্লাব কর্তাদের আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু চতুর্থবারের আশ্বাসও সম্ভবত ব্যর্থ হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ১৫ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়ার কথা ছিল হুমায়ুনের। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও এক পয়সা মেলেনি। সেকারণে ক্লাবের সমস্যা বেড়েছে। ফুটবলার বেতন বকেয়া রয়েছে। যদিও ক্লাব কর্তাদের উদ্যোগে বকেয়া অর্থ মিটিয়ে ফিফার নির্বাসনের খাঁড়া এড়িয়েছে মহামেডান। হুমায়ুনের এহেন কাজে ক্লাব কর্তারা সকলেই ক্ষুব্ধ। নতুন কাউকে সভাপতি করার কথাও ভাবছেন ক্লাব কর্তারা, এমনটাই সূত্রের খবর। সেই নিয়ে কর্তাদের ঘনিষ্ঠমহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। এবার আইনি নোটিস দিয়ে কি হুমায়ুনকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হল?
