কাতার বিশ্বকাপের আগে থেকে আর্জেন্টিনা শিবিরের একটা বিষয় স্পষ্ট বোঝা যেত। যার কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। দলের কিংবদন্তি সদস্যের প্রতি শিবিরের অন্য সকলের ছিল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, আবেগ। সবাই যেন তৈরি ছিলেন মেসির জন্য প্রাণ দেওয়ার জন্য।
আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল শিবিরে কি সেই ছবি দেখা যাবে নেইমারকে কেন্দ্র করে? সাম্প্রতিক সময়ে দেশের এক নম্বর মহাতারকার জন্যও কি জীবন-মৃত্যুর বাজি খেলতে তৈরি থাকবেন দলের বাকিরা? অন্তত ভিনিসিয়াস জুনিয়র সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, তাতে আশ্বস্ত হতেই পারেন নেইমার-অনুরাগীরা। আসলে ব্রাজিলের হয়ে নেইমার শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে নামবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ শেষ কয়েক বছর ধরেই ক্রমাগত চোটে ভুগছেন সাম্বা তারকা। বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার পর ফের চোট পেয়েছেন নেইমার। এই পরিস্থিতিতে ভিনিসিয়াসের বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
এক সাক্ষাৎকারে তরুণ ফরোয়ার্ড বলেছেন, “নেইমার আমাদের আদর্শ। শুরু থেকেই আমি ওর ভক্ত। সবসময় ও আমাকে সাহায্য করেছে। ওর ফুটবলজীবনের সূচনা থেকেই আমি ওকে অনুসরণ করছি। ওর সাফল্যে আমি খুশিই হই। এত চোট, এত যন্ত্রণার পরও জাতীয় দলে ও ফিরে এসেছে। আর এই দুর্দান্ত দলের সঙ্গে বিশ্বজয়ী হওয়ার একটা শেষ সুযোগ ও পাচ্ছে।”
নেইমারের সঙ্গে এক ফ্রেমে ভিনিসিয়াস। এই দৃশ্য কি ফের দেখা যাবে বিশ্বকাপে?
ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি শেষ পর্যন্ত কাপ-স্কোয়াডে ডেকেছেন নেইমারকে। তবে তাঁর আমলে দীর্ঘদিন জাতীয় দলে ব্রাত্য ছিলেন এই মহাতারকা। সেসময় নেইমারের মনের অবস্থা কেমন ছিল, তাও ফাঁস করেছেন ভিনিসিয়াস। “বিভিন্ন ম্যাচের জন্য জাতীয় দল ঘোষণার পর নেইমারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। প্রত্যেকবার। আর ও একটা কথাই বলত, ‘আন্সেলোত্তি এবারও আমাকে ডাকল না! খুব খারাপ লাগছে।’ কিন্তু আমি ওকে সান্ত্বনা দিতাম”, বলছিলেন ব্রাজিলের নতুন তারা, “বলতাম যে, কোচ নিশ্চিতভাবেই তোমাকে ভরসা করে। ঠিক সময়ে তুমি সুযোগ পাবে। কোচ অবশ্যই তোমাকে ডাকবে দলে।”
৩৪ বছরের নেইমারের পাশাপাশি এবার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন এনড্রিকও। ১৯ বছরে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে চলা ফরোয়ার্ডের উত্তেজনার কথাও প্রকাশ করেছেন ভিনিসিয়াস। তাঁর কথায়, “বিশ্বকাপ নিয়ে খুব চিন্তায় ছিল। বারবার জিজ্ঞাসা করত, দলে জায়গা পাবে কি না? আমি প্রতিবার বলতাম যে, ‘একটু ধৈর্য ধরো। তুমি আমাদের সঙ্গী হবে বিশ্বকাপে।’ এনড্রিক খুবই তরুণ এবং মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামার সুযোগ তো আর সবাই পায় না।”
