আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের ম্যানেজার হিসাবে সরকারিভাবে তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু মিনের্ভা এফসির কর্ণধার রঞ্জিত বাজাজ সেই দায়িত্ব নিতে নারাজ। তিনি স্পষ্ট বলে দিচ্ছেন, যেভাবে তাঁকে জানানোর আগেই দলের ম্যানেজার হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে সেটা পেশাদার সংস্থায় হয় না। তাছাড়া অনূর্ধ্ব-১৫ ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতে হলে তাঁকে বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের টিমের সঙ্গে কাজ করতে হবে। 'অচেনা' ওই টিমের সঙ্গে কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
আসলে অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ দলের হেডকোচ হিসাবে বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের নাম অনুমোদন করেছে কার্যকরী কমিটি। সাপোর্ট স্টাফও তাঁরই থাকবে। দলের ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে রঞ্জিত বাজাজকে। যা ভারতীয় ফুটবলের জন্য অভিনব ব্যাপার। কোনও ক্লাব কর্ণধারকে এই প্রথম জাতীয় দলের দায়িত্বে, আগে দেখা যায়নি। গোথিয়া কাপ, হেলসিঙ্কি কাপ এবং ডানা কাপ জিতে ভারতীয় ফুটবলে ইতিমধ্যেই আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন বাজাজ। ম্যাচের আগে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাঁর ভাষণ রিলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ফেডারেশন নাম ঘোষণা করলেও শেষপর্যন্ত সম্ভবত তিনি দায়িত্ব নেবেন না।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, "আমার নাম ঘোষণা হয়ে গিয়েছে, অথচ আমাকে জানানোই হয়নি। সবাই আমাকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাচ্ছে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। তারপর নিজে ফেডারেশনের কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি। এভাবে কোনও পেশাদার ফেডারেশন কাজ করতে পারে না। সমস্যা হল ভারতের ক্ষেত্রে এটা বারবার হচ্ছে। এতেই ভারতীয় ফুটবল পিছিয়ে যাচ্ছে।" বাজাজ বলছেন, "আমি তো বুঝতেই পারছি না বিবিয়ানোকে কোচ করা হচ্ছে, তাহলে আমাকে কেন ম্যানেজার করা হল। কোনও অসম্মান না করেই বলছি আমি বিবিয়ানোর দলের কাউকে চিনি না। আর যাঁদের চিনি না তাঁদের নিয়ে কাজ করা যায় না। এটা অনেকটা হোসে মোরিনহো আর পেপ গুয়ার্দিওলার একসঙ্গে কাজ করার মতো পরিস্থিতি।"
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের আয়োজন করছে ফিফা। এই প্রতিযোগিতা, যতটা না প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, তার থেকেও বেশি ফুটবলকে কেন্দ্র করে ফেস্টিভ্যালের চেহারা দিতে চাইছে ফিফা। সেই কারণেই ফিফার অন্তর্ভুক্ত যত দেশ রয়েছে, সবাইকে এই জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই বিশ্বকাপে খেলার জন্য কোনও যোগ্যতা নির্ণায়ক ম্যাচ খেলতে হবে না কোনও দেশকেই। সেই কারণেই অক্টোবর মাসে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত এই জুনিয়র বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারবে ভারতীয় দল।
