মোহনবাগানকে হারিয়ে ১৭তম বার ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যুবভারতীতে লাল-হলুদের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের পর এল আরও এক বিশেষ মুহূর্ত। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেই ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারকে ফোন করলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ফোনের ওপার থেকে অভিনন্দন জানালেন দাদা। দু'জনের মধ্যে কী কথা হল?
মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি দেবব্রত সরকার। হঠাৎই বেজে উঠল তাঁর ফোন। জানালেন, ফোন করেছেন সৌরভ। ক্যামেরার সামনেই ফোন ধরলেন তিনি। সৌরভ অভিনন্দন জানাতেই হাসিমুখে দেবব্রত বললেন, "থ্যাঙ্ক ইউ সৌরভ... থ্যাঙ্ক ইউ। না না, তোমার কোচ খারাপ হবে কী করে? তাহলে আমি নিলাম কী করে? আমার তো এই কোচের উপর অনেক দিন থেকেই নজর ছিল।" তবে হাবাসকে নেওয়ার নেপথ্যে সৌরভের কোনও পরামর্শ ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি।
রবিবার ডুরান্ড ফাইনালে যুবভারতীর মাঠে রীতিমতো 'মস্তানি' দেখিয়ে ট্রফি জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। এমন ফলাফলে উচ্ছ্বসিত লাল-হলুদ কর্তা। তাঁর কথায়, বাইরে থেকে যতই সমালোচনা হোক, ইস্টবেঙ্গল বিশ্বাস করে পারফরম্যান্সে। "ইস্টবেঙ্গল সব সময় মাঠের পারফরম্যান্সে বিশ্বাস করে। বাইরে চিৎকার করে নয়, মাঠেই আসল জবাব দিতে হয়।" এবারের ডুরান্ডে মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচে হারের পরেও যে তিনি আত্মবিশ্বাস হারাননি, তা-ও জানালেন লাল-হলুদ শীর্ষকর্তা। সহকর্মীদের আশ্বস্ত করেছিলেন, ফাইনালে জিতেই ট্রফি ঘরে তুলবে দল।
ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করা এডমুন্ড লালরিনডিকাকেও ভুললেন না দেবব্রত। বেঙ্গালুরু থেকে কীভাবে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং চোট পাওয়ার পর কঠিন সময়েও কীভাবে তাঁর উপর আস্থা রাখা হয়েছিল, সেই গল্পও শোনালেন তিনি। ডুরান্ডজয়ী দলের জন্য বিশেষ ইনসেন্টিভ ও পুরস্কারের ঘোষণাও হবে বলে জানালেন। তরুণদের উপর আস্থা রাখার ফলেই এই সাফল্য। এমনটাই মনে করেন দেবব্রত। তাঁর সংযোজন, "ইস্টবেঙ্গলের এই দাপট নতুন নয়, এটা চিরকালীন। ডুরান্ড তো অনেক বছর বন্ধ ছিল। ২০১৯ সালে ফের চালু হয়েছে। বন্ধ হওয়া একটা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হব কীভাবে?” ট্রফিজয়ের পর টিম হোটেলে পৌঁছতেই শুরু হল আরও এক দফা উৎসব। কেক কেটে ডুরান্ডজয়ের আনন্দে মাতলেন কোচ হাবাস-সহ লাল-হলুদ ফুটবলাররা। সেলিব্রেশন চলবে সোমবারও। ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে পতাকা উত্তোলন করা হবে।
