রুদ্ধশ্বাস, অবিশ্বাস্য! কোনও বিশেষণই যেন যথেষ্ট নয়। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার্ন মিউনিখের রুদ্ধশ্বাস লড়াইকে অনেকেই দেগে দিচ্ছেন মরশুমের সেরা ম্যাচ হিসাবে। ১২০ মিনিটের টানটান ফুটবলযুদ্ধের পর শেষ হাসিটা হাসল বায়ার্ন। এমবাপেদের উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে পৌঁছে গেলেন হ্যারি কেনরা।
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই মানুয়েল নয়্যারের মতো গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য ভুল। আর সেই ভুল থেকে আরদা গুলেরের তারচেয়েও অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার গোল। মিনিট পাঁচেক বাদেই গোল শোধ করে বায়ার্ন। আবারও গোলরক্ষকের ভুলে। জায়গা ছেড়ে বল ক্লিয়ার করতে সামনে এগিয়ে ভুল করলেন রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনও। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আলেকসান্দার পাভলোভিচ সমতায় ফেরালেন বায়ার্নকে। ম্যাচের ২৯ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গুলেরের আরও এক অবিশ্বাস্য গোল। আবার এগোল রিয়াল। কিন্তু সেই লিডও বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। ৯ মিনিট বাদে হ্যারি কেন আবার সমতা ফেরালেন। কিন্তু রিয়াল দমার মতো ক্লাব নয়। ৪ মিনিট বাদে ফের অনবদ্য গোলে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপে। প্রথমার্ধ শেষে ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল রিয়াল।
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২–১ গোলে হারেন এমবাপেরা। অর্থাৎ দ্বিতীয়ার্ধের হাফ টাইম পর্যন্ত দু'দলের গোলসংখ্যা ৪-৪। দীর্ঘক্ষণ সেই ফলাফলই বজায় ছিল। একটা সময় মনে হচ্ছিল ওই ফলাফলেই খেলা শেষ হবে। কিন্তু এরপরই টুইস্ট। ম্যাচটা যখন অতিরিক্ত সময়ে যাই যাই করছে, ৮৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখে রিয়ালকে ১০ জনের দল বানিয়ে দিলেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। তিন মিনিট পরেই লুইস দিয়াজের গোলে ৩–৩ সমতা। ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। ততক্ষণে দুই লেগ মিলিয়ে ৫–৪ গোলে এগিয়ে বায়ার্ন। সেমিতে যেতে পরবর্তী আধ ঘণ্টায় দু'গোল করতে হত রিয়াল মাদ্রিদকে। সেটা তো হলই না, উলটে সংযুক্ত সময়ে আরও একটি গোল করে মাইকেল ওলিস দ্বিতীয় লেগেও বায়ার্নের জয় নিশ্চিত করল। দুই লেগের লড়াইটা ৬–৪ গোলে জিতে ১৫ বারে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে ছিটকে দিল বায়ার্ন।
অন্য ম্যাচে দ্বিতীয় লেগে স্পোর্টিং সিপির সঙ্গে ড্র করে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতেই সেমির টিকিট নিশ্চিত করেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং পিএসজি। সেমিফাইনালে পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন। আর আর্সেনাল খেলবে অ্যাটলেটিকোর বিরুদ্ধে।
