shono
Advertisement
TMC

অরূপ-স্বরূপের ফ্ল্যাটে পাপের সুরক্ষিত আড়াল! গোপন ঘরে পাপের ধুলো

ঘরের মধ্যে ঘরে অন্যায়কে আগলে রাখা হয়েছে সমাজ ও আইনের চোখ থেকে। তৈরি করা হয়েছে পাপের সুরক্ষিত আড়াল? দেখা যাক, ‘বিশ্বাস’ ভ্রাতৃদ্বয়ের অপরাধের পচাজল কত দূর গড়াতে পারে!
Published By: Biswadip DeyPosted: 05:06 PM Jun 10, 2026Updated: 09:16 PM Jun 10, 2026

গোপন ঘরের দরজা খুললে শুধু ধুলো ওড়ে না, পুরনো পাপও ওড়ে। যত দূর মনে পড়ছে, লিখেছিলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। গুপ্ত ঘরের প্রসঙ্গ বারবার, বিচিত্র অনুষঙ্গে, ফিরে এসেছে তঁার লেখায়। তিনি বৈজ্ঞানিক বিক্রমকে দিয়েছেন এক প্রাত্যহিক সংযোগ ও নজরদারি থেকে দূরের এক পাতাল। তাঁর বরদাচরণ থেকে শবর দাশগুপ্তর গল্পে প্রায়শই রহস্যময় ঘটনাসূত্রে আমাদের তিনি নিয়ে যান গুপ্তকক্ষে। তার একটা কারণ, বিশেষ করে অপরাধের গল্পে, মানুষ ভালোবাসে গোপন কুঠুরির রহস্যময় ভূমিকা।

Advertisement

এ মুহূর্তে বাঙালির সংস্কৃতি থেকে খেলার জগৎ অরূপ-স্বরূপ নামের ভ্রাতৃদ্বয়ের নানা অপরাধে জর্জরিত। এবং এই অপরাধের কাহিনি সম্ভবত নতুন বঁাক নিতে চলেছে ঘরের মধ্যে একটি ঘরের অনিবার্য আবির্ভাবে। ঘরের মধ্যে আরও একটি ঘর স্বরূপের ফ্ল্যাটে। উপরতলায় অরূপের ফ্ল্যাট। স্বরূপ সুবিধামতো ভুলে গিয়েছেন এই অতি আধুনিক কম্বিনেশন লকের চিচিংফঁাক সংখ্যা। এবং স্বরূপের স্ত্রীর সঙ্গে চলছে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা। তিনি তো একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারে কিছুতেই নাক গলাতে পারেন না। সুতরাং রহস্য এবং কৌতূহল তুঙ্গে পৌঁছল, যখন কম্বিনেশন তালাখোলার বিশেষজ্ঞ ডেকে, খোলা হল। এবং টাকার স্তূপ নয়। পচাগলা মৃতদেহ নয়। পুলিশের চোখের সামনে এল ১৪টি মোবাইল, দু’টি আইপ্যাড, এবং টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রচুর নথিপত্র। এবার দেখা যাক, ‘বিশ্বাস’ ভ্রাতৃদ্বয়ের অপরাধের পচাজল কত দূর গড়াতে পারে!

অরূপ-স্বরূপ নামের ভ্রাতৃদ্বয় নানা অপরাধে জর্জরিত। এবং এই অপরাধের কাহিনি সম্ভবত নতুন বঁাক নিতে চলেছে ঘরের মধ্যে একটি ঘরের অনিবার্য আবির্ভাবে। ঘরের মধ্যে আরও একটি ঘর স্বরূপের ফ্ল্যাটে। উপরতলায় অরূপের ফ্ল্যাট।

বিষয়টি হল, ঘরের মধ্যে ঘর করে অন্যায়কে আগলে রাখা হয়েছে সমাজ এবং আইনের চোখ থেকে। তৈরি করা হয়েছে পাপের সুরক্ষিত আড়াল। এই মর্মে অনেকের মনে পড়তে পারে– জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত স্যাটায়ার ‘নাইন্টিন এইট্টিফোর’, যার মধ্যে সেই ভয়ংকর গোপন ঘর, যেটা ‘বিগ ব্রাদার’ উইনস্টনের সব পাপ ও অন্যায়ের ঘঁাটি, যেখান থেকে সে চালায় নজরদারি, শাসন ও শোষণ, এবং যেখানে সে তৃপ্ত করে জুলিয়ানের সঙ্গে নিষিদ্ধ রিরংসা। তবে সম্মান ও স্বাধীনতার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য, নিজের ভাবনার সঙ্গে নিবিড় বসবাসের জন্যও প্রয়োজন “রুম অফ ওয়ান’স ওন”, বলেছেন ভার্জিনিয়া উল্‌ফ। এই ঘর বাইরে থেকে দেখা যায় না। রবীন্দ্রনাথ এমনই ঘরকে বলেছিলেন, ‘মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘর’। কিন্তু জোড়াসঁাকো ঠাকুরবাড়িতে তিনি পার্থিব রুদ্ধগৃহও তো দেখেছিলেন। বুঝতে চেষ্টা করেছিলেন সেই বন্ধ ঘরের হৃদয়বেদন। এই ঘরেই তো আত্মহত্যা তঁার ২৫ বছরের নতুন বউঠান কাদম্বরীর: ‘একজন কে ছিল সে গেছে, সেই হইতে এ গৃহের দ্বার রুদ্ধ। সেই অবধি এখানে আর কেহ আসেও না, এখান হইতে আর কেহ যায়ও না। সে অবধি এখানে যেন মৃত্যুরও মৃত্যু হইয়াছে।’

এমন একটি ঘরেরও জীবনে প্রয়োজন– এই উপলব্ধির জন্য। কখনও কখনও তা অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও পবিত্র। তবে ঘরের ভেতরের গোপন ঘর থেকে যদি ওড়ে পাপের ধুলো, তবে সে-গুপ্তঘর সমালোচনার চঁাদমারি হতে বাধ্য। শ্লেষ, বিদ্রুপ, ব্যঙ্গের প্রতিটি চাবুক সেদিক পানেই ধাইবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement