মার্কিন মুলুকে ইরানের বিশ্বকাপ-ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আর বিতর্ক ক্রমেই ডানা মেলছে। কখনও ইরানের তরফে দাবি করা হচ্ছে, তাদের সব ম্যাচ সরিয়ে আনা হোক মেক্সিকোয়। আবার মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত এশিয়ার দেশটির পরিবর্তে ইটালিকে সুযোগ দেওয়ার সুর গাইছেন। এই পরিস্থিতিতে যাবতীয় জল্পনায় জল ঢালার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে। তারই অংশ হিসেবে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে এসে কোনও সমস্যায় পড়বে না ইরানের ফুটবল দল। তবে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরা অন্য পরিচয়ে আসার চেষ্টা করলে, ফল ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
মার্কিন-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েন কয়েক দশকের পুরনো ইস্যু। এবছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ শুরু করে ইরানের উপর। যে ঘটনার আঁচ লেগেছে ফিফা বিশ্বকাপের উপরও, যা শুরু হবে আগামী জুনে। বিশ্বকাপে বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে ইরান। তাদের সব ম্যাচ হওয়ার কথা মার্কিন-ভূমিতে। ফেব্রুয়ারির শেষে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এমনকী মার্কিন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং বলে বসেন, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের ফুটবল দল তাঁর দেশে না এলেই ভালো করবে। দিন দুয়েক আগে ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ইরানের পরিবর্তে ইটালিকে বিশ্বকাপে নেওয়া হোক। আমি মার্কিন রাষ্ট্রপতি এবং ফিফার কাছে এই পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ করব।"
পাওলোর এমন বক্তব্য যেন বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে। ইরানের থেকেও এই বিষয়ে বেশি সোচ্চার হয় ইটালি। চারবারের বিশ্বজয়ী দেশের একাধিক ক্রীড়াকর্তা জানিয়ে দেন, ট্রাম্পের দূত এমন বক্তব্যের মাধ্যমে আদতে অপমান করেছেন ইটালিকেই। এরপরই হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের কাছে ইতালি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান খোলসা করেন রুবিও। তিনি বলেন, "আমরা তো কখনও বলিনি যে ওদের বিশ্বকাপে আসতে দেওয়া হবে না। সমস্যাটা ইরানের সঙ্গে। ওদের ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে নয়।” তবে রুবিও সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আইআরজিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন ব্যক্তিকে স্বাগত জানানো হবে না। "আমার ক্রীড়াবিদদের বাধা দেব না। কিন্তু ওরা যদি এমন লোকদের আনতে চায়, যাদের সঙ্গে আইআরজিসি-র যোগ আছে, তাদের হয়তো প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।" মার্কিন প্রশাসনের নজরে, রেভলিউশনারি গার্ড একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। টিমের সাপোর্ট স্টাফ বা সাংবাদিকের 'ছদ্মবেশে' সেই সংগঠনের কোনও সদস্যকে যাতে ইরান না নিয়ে আসে, তেমনই ইঙ্গিত রুবিওর।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত হলেও পাওলোর মন্তব্যের দায় নিতে নারাজ রুবিও। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, "জানি না কোথা থেকে এসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে। তবে ইরান যদি না আসে, সেক্ষেত্রে সেটা নিশ্চিতভাবেই ওদের সিদ্ধান্ত হবে।" এর আগে অবশ্য সুর বদলেছেন স্বয়ং ট্রাম্পও। মার্কিন রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন ইরানের কোনও ক্রীড়াবিদকে হেনস্তা করবে না।
