কেরালা ব্লাস্টার্সের সঙ্গে ম্যাচের আগেই যেন ফোকাসটা নড়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের। সাংবাদিক সম্মেলনে কোথায় প্রতিপক্ষকে নিয়ে নিজের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাথা ঘামাবেন তা নয়, খোদ ক্লাব কর্তাদের ইঙ্গিত করে সুর চড়া করেছিলেন লাল-হলুদ কোচ। শনিবার ইস্টবেঙ্গল-কেরালা ম্যাচের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াল ক্লাব কর্তাদের বিরুদ্ধে অস্কার ব্রুজোর একাধিক অভিযোগ। ফলে যুবভারতীতে ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়। এগিয়ে গিয়েও ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে শেষ পর্যন্ত ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয় মশাল বাহিনীকে। এর পরেই খবর, আইসিসিইউতে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোর ভবিষ্যৎ।
আইএসএলে হোঁচট খেতেই প্রবল সমালোচনার ঝড় বইছে লাল-হলুদে। জানা যাচ্ছে, কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন কর্তারা। ইমামি ম্যানেজমেন্ট সোমাবার ফ্রি হতে পারলে আজই অস্কারকে নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। নয়তো আগামিকাল। সবটাই নির্ভর করবে, অস্কার কী উত্তর দেবে তার উপর। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হবে, নিজের দলের পারফরম্যান্সে মন না দিয়ে কেন মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন তিনি? প্রথমে সাংবাদিকদের টার্গেট, পরে ক্লাব কর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন লাল-হলুদ কোচ। এতে দলের ফোকাস যেরকম নষ্ট হচ্ছে, ইমামি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্কও খারাপ হচ্ছে। মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।
আইএসএলে হোঁচট খেতেই প্রবল সমালোচনার ঝড় বইছে লাল-হলুদে। জানা যাচ্ছে, কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন কর্তারা। ইমামি ম্যানেজমেন্ট সোমাবার ফ্রি হতে পারলে আজই অস্কারকে নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। নয়তো আগামিকাল। সবটাই নির্ভর করবে, অস্কার কী উত্তর দেবে তার উপর।
রবিবার রাতে নিজের সমস্ত সোশাল মিডিয়ার বায়ো থেকে ইস্টবেঙ্গলকে সরিয়ে দেন ব্রুজো। এরপরেই লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে জল্পনা বাড়ে, তিনি পদত্যাগ করতে চলেছেন? কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ ড্র হওয়ার পর যুবভারতীতে লাল-হলুদ সমর্থকরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ব্রুজোকে শুনতে হয় ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। শনিবারের ম্যাচের পর ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তা দেবব্রত সরকারকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি ইস্টবেঙ্গল কোচের বিদায়ঘণ্টা বাজবে? জবাবে তিনি বলেন, "ভেবেছিলাম এ ব্যাপারে কিছু বলব না। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, এত খারাপ ফুটবল আগে দেখিনি। কোচ বদলের ব্যাপারটা আমাদের হাতে নেই। কোম্পানি বিষয়টা দেখে।" অর্থাৎ ব্রুজোর ব্যাপারে উষ্মার বরফ গলার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তাই আজই বেজে যেতে পারে অস্কারের বিদায়ঘণ্টা।
উল্লেখ্য, কেরালা ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রুজো বলেছিলেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কিছু লোক আছে, যারা দলের উন্নতি করতে চায় না। হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে দলে বিভক্ত বা অস্থির করে তোলার চেষ্টা করে তারা। সমর্থকদের হতাশা নিয়ে ন্যারেটিভ ছড়ায়। তবে দলের মধ্যে আমরা সেসব আমল দিচ্ছি না।” জবাবে দেবব্রত বলেছিলেন, “কোচ পেশাদার। আজ আছে, কাল চলে যাবে। ওর কথায় আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না। অস্কারের যদি কোনও অসুবিধা থাকে, সেটা বোর্ড মিটিং ডেকে বলুক। সেখানে কোচ যদি কারওর সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে বলে, তখন নিশ্চয়ই আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।” এখন দেখার, অস্কারকে নিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। যদিও সবটাই নির্ভর করছে কোচ কী উত্তর দেয় তার উপর। উল্লেখ্য, এবারের আইএসএলের শুরুটা অসাধারণ করেছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে অস্কার ব্রুজোর দল। টানা তিন ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করেছে ইস্টবেঙ্গল।
