কথায় বলে জন্মভূমি মায়ের সমান। সেকারণেই কি প্রাণভয় নিয়েই নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে দেশে ফিরে গেল ইরানের মহিলা ফুটবল দল? নাকি চাপের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে ইরানে ফিরতে হল দামাল ফুটবলারদের? দীর্ঘ ঘটনাক্রম শেষে বুধবার ইরানে পা রেখেছেন মহিলা ফুটবলাররা। কিন্তু নিজের দেশে কি আদৌ নিরাপদে থাকবেন তাঁরা?
মহিলাদের এশিয়ান কাপে খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল ইরানের ২৬ সদস্যের দল। তাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছনোর পরেই শুরু হয় যুদ্ধ। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই জাতীয় সংগীত বয়কট করেছিলেন ইরানের জাতীয় দলের মহিলা ফুটবলাররা। তারপর থেকেই প্রশ্ন ওঠে, এই 'বিদ্রোহে'র পর তাঁরা আদৌ নিরাপদে ইরানে ফিরতে পারবেন? খানিকটা প্রাণভয়েই দলের বেশ কয়েকজন সদস্য আবেদন করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য। সবমিলিয়ে সাতজনকে ভিসা দেওয়া হয়। অন্তত সপ্তাহখানেক অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা।
কিন্তু রবিবার থেকে ইরানের মহিলা ফুটবলাররা একে একে দেশে ফিরছেন বলেই জানা গিয়েছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকার দরুণ তুরস্কের সীমান্ত থেকে বাসে চেপে ইরানে ফিরেছেন ফুটবলাররা, এমনটাই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, দেশে ফেরা ফুটবলারদের বিশেষভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁদের বিশেষ সংবর্ধনাও দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের মতে, অন্য দেশে আশ্রয় না নিয়ে আসলে ইরানের শত্রুদের হতাশ করেছেন মহিলা ফুটবলাররা।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ বলেন, "শত্রুদের চাপের মুখেও ভয় পায়নি মহিলা ফুটবলাররা।" যদিও ইরানের মানবাধিকার সংস্থাগুলি বলছে অন্য কথা। নানা সূত্র মারফত শোনা যাচ্ছে, ইরানের মহিলা ফুটবলাররা অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়ার দরুণ কূটনৈতিক মহলে তেহরানের মুখ পুড়েছে। 'শাস্তি' হিসাবে আশ্রয় চাওয়া ফুটবলারদের পরিবারকে বারবার জেরা করা হয়েছে। তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইরানবিরোধী মন্তব্য করলে বা অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেলে ফুটবলারদের পরিবারকে শাস্তি দেওয়া হবে, এমন খবরও ছড়িয়েছে। প্রবল চাপের মুখে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ইরানের মেয়েরা, এমনটাই সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই ফুটবলারদের 'গদ্দার' বলে দাগিয়ে দিয়েছে ইরানের জাতীয় মিডিয়া। তাঁদের প্রাণটুকু বাঁচবে তো?
