প্রযুক্তি আজ কেবল দেওয়ালে কিংবা টেবিলে রাখা কোনও যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা শরীরে পরিধান করা যায়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ, স্মার্ট ওয়াচ। কবজিতে আটকে থাকা এই ছোট্ট গ্যাজেট কেবল সময় দেখায় না। কত পা হাঁটা উচিৎ, হৃদস্পদনের গতি অস্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, তাও খেয়াল করায়। কল-মেসেজ করা যায়, গেম খেলা যায়, এমনকি ছোটখাটো হিসেব রাখতেও কাজে লাগে। বিগত বছরগুলিতে বাজারে স্মার্ট ওয়াচের চাহিদা রীতিমত তুঙ্গে পৌঁছেছে। জেন-জি থেকে মিলেনিয়াল, সক্কলেরই পছন্দের তালিকায় জায়গা করেছে এই হাত-ঘড়ি। স্টাইল স্টেটমেন্ট হওয়ার পাশাপাশি জীবনযাপনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
কিন্তু পৃথিবী জুড়ে চিকিৎসকেরা সাবধানবার্তা জানাচ্ছেন। দিনরাত্তিরের সঙ্গী এই ঘড়ি নাকি অচিরেই বাড়াতে পারে সাধারণ মানুষের ‘টক্সিক লোড’। ঠিক কী কারণে স্মার্ট ওয়াচ বাতিল করতে বলছেন তাঁরা, জানেন কি?
দিনরাত্তিরের সঙ্গী এই ঘড়ি নাকি অচিরেই বাড়াতে পারে ‘টক্সিক লোড’!
রেডিওফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যাল থেকে সাবধান!
বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। খাবারে কী কী খাদ্যগুণ রয়েছে, তা তাঁরা মেপে দেখেন। যোগব্যায়াম করেন। সকালে ওঠা, রাতে শুতে যাওয়া সবই করেন নিয়ম মেনে। কিন্তু হাতের ঘড়িটি নিরাপদ কিনা, তা ভেবেন দেখেন না কেউই। বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সঙ্গে যেন জুড়ে গিয়েছে স্মার্ট ওয়াচের ব্যবহার। কেবল যে এই ঘড়ি পরে তাঁরা হাঁটাচলা করছেন, তাই নয়। অনেকেই ঘড়ি হাতে ঘুমাতেও যান!
সেক্ষেত্রে অবশ্যই জেনে রাখা দরকার যে, এই ইলেকট্রনিক গ্যাজেটটি থেকে সরাসরি দেহের টিস্যুতে পৌঁছায় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যাল। চব্বিশ ঘণ্টাই ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শে থাকে এই গ্যাজেট। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন একটানা এমন চললে, ঘড়ি হাত থেকে খুলে ফেলার পরেও তার প্রভাব রয়ে যায় মানবশরীরে।
ত্বকে এঁটে বসছে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’!
স্মার্ট ঘড়ির স্ট্র্যাপ লেদার কিংবা মেটালের বদলে এক বিশেষ ধরণের সিন্থেটিক রাবারের তৈরি। এই মসৃণ, নমনীয় ইলাস্টিক জাতীয় বস্তুর নাম ‘ফ্লুয়োরোলাস্টোমার’। এর মধ্যে থাকে পিএফএএস, বা ‘ফরেভার কেমিক্যাল’। ত্বক কখনও ঘেমে ওঠে, ভিজে যায়। আর সব অবস্থাতেই এই ব্যান্ড থেকে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল প্রবেশ করে ত্বকে। যা এক সময়ের পর লিভার, কিডনির সমস্যা তৈরি করে। হরমোনাল সামঞ্জস্যের বিঘ্ন ঘটায়।
অনেকেই ঘড়ি হাতে ঘুমাতেও যান!
কমানোর বদলে স্ট্রেস বাড়ায়
হাতে আটকানো স্মার্ট ওয়াচটি যেন সারাক্ষণই ব্যস্ত করে তোলে মানুষকে। মোবাইল দূরে সরিয়েও প্রতিটি নোটিফিকেশন, মেসেজ, ফোনকলের প্রতি উদ্বিগ্ন হয়ে থাকে মানুষ। ‘স্টেপ কাউন্টার’ সর্বক্ষণ মনে করায়, হাঁটা কম হচ্ছে কিনা। 'হার্ট রেট মনিটর' বারবার খেয়াল করে হৃদস্পন্দনের গতি। ফলে জন্ম দেয় উদ্বেগ, অস্থিরতা।
এর থেকে নিষ্কৃতির উপায় রয়েছে মানুষের হাতেই! স্মার্ট ওয়াচ হাতে রাখুন কেবল ততক্ষণই, যতক্ষণ দরকার। বাকি সময় ব্যবহার করুন সাধারণ লেদার অথবা মেটাল স্ট্র্যাপের অ্যানালগ ওয়াচ। নিজের চব্বিশ ঘণ্টা টানটান স্ট্রেসের মধ্যে বেঁধে দেবেন না। কোনওদিন তুলনায় কম হাঁটা হতেই পারে। কোনও মেসেজ বা ফোনকলের উত্তর দিতে দেরী হতেই পারে। মস্তিষ্ককে রিল্যাক্স করতে দিন। সর্বোপরি, রাতে শোবার সময় অবশ্যই হাতঘড়িটি খুলে রাখুন। মনে রাখুন, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতাই আসল লক্ষ্য।
