shono
Advertisement
Good girl syndrome

ভালো মেয়ে হতেই হবে, হাজারও প্রত্যাশার চাপে নষ্ট জীবন! কী এই 'গুড গার্ল সিনড্রোম'? 

'গুড গার্ল সিনড্রোম' কোনও অসুখ নয়। এর প্রভাব শরীর ও মনের উপর কখনও তাৎক্ষণিক, কখনও গভীরভাবে পড়ে। সবসময় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা, অন্যের স্বীকৃতি আদায়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের আবেগ চেপে রাখার প্রবণতা ধীরে ধীরে মানসিক চাপ বাড়ায়। আর সেই চাপই অনেক সময় শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:14 PM Mar 10, 2026Updated: 08:22 PM Mar 10, 2026

ছোটবেলা থেকে অনেক মেয়েকে এক অদৃশ্য প্রত্যাশার মধ্যে বেড়ে ওঠতে হয়। সবসময় ভালো মেয়ে হতেই হবে, কাউকে 'না' বলতে নেই, সব দায়িত্ব নিখুঁতভাবে সামলাতে হবে, আর নিজের কষ্ট বা ক্লান্তি প্রকাশ করা যাবে না। এই মানসিক অবস্থাকেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'গুড গার্ল সিনড্রোম'।

Advertisement

চিকিৎসকদের মতে, এটি কোনও অসুখ নয়। কিন্তু এর প্রভাব শরীর ও মনের উপর কখনও তাৎক্ষণিক, কখনও গভীরভাবে পড়ে। সবসময় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা, অন্যের স্বীকৃতি আদায়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের আবেগ চেপে রাখার প্রবণতা ধীরে ধীরে মানসিক চাপ বাড়ায়। আর সেই চাপই অনেক সময় শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।

ছবি: প্রতীকী

মানসিক চাপ কীভাবে হরমোনের ভারসাম্যে বদল আনে?
শরীর ও মনের সম্পর্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, যখন কেউ সবসময় অন্যের প্রত্যাশা পূরণের চাপ অনুভব করে, তখন মস্তিষ্ক সেটিকে এক ধরনের ‘হুমকি’ হিসেবে ধরে নেয়।

এই পরিস্থিতিতে শরীরের হাইপোথ্যালামাস-পিটুইটারি-অ্যাড্রিনাল (HPA) ক্ষরণ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়।

কর্টিসল বাড়লে কী সমস্যা হয়?
এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয় কর্টিসল, যা শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন। স্বাভাবিক অবস্থায় কোনও চাপ বা স্ট্রেসের সময় কর্টিসল সাময়িকভাবে বাড়ে এবং পরিস্থিতি সামলে গেলে আবার কমে যায়।

কিন্তু যখন কেউ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তখন কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘসময় বেড়ে থাকে। এর ফলে শরীর কখনও কখনও প্রোজেস্টেরন তৈরি কমিয়ে দেয়। এরফলে দেখা দিতে পারে—

  • অনিয়মিত পিরিয়ড
  • ত্বকে ব্রণ
  • হরমোনজনিত সমস্যা
  • পিসিওএস ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস অনেক সময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে—

  • পেটের চারপাশে মেদ
  • পিরিয়ডে সমস্যা
  • পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের লক্ষণ

ছবি: প্রতীকী

শরীরের সতর্ক সংকেত
অনেক সময় এই মানসিক চাপ প্রথমে চোখে পড়ে না। কিন্তু শরীর কিছু লক্ষণের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দিতে থাকে। যেমন- অনিয়মিত পিরিয়ড,  ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক অস্থিরতা, খাবারে নিয়ন্ত্রণের পরেও ওজন বৃদ্ধি।

তাহলে কী করণীয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাত্রাতেও কিছু পরিবর্তন জরুরি।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: থাইরয়েড এবং প্রজনন হরমোন (LH, FSH, প্রোল্যাক্টিন) সময়মতো পরীক্ষা করলে সমস্যাকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রয়োজন হলে চিকিৎসা: পিসিওএস বা থাইরয়েডের মতো সমস্যা থাকলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ।
সুষম খাদ্যাভ্যাস: রক্তে শর্করার মাত্রা যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ছবি: প্রতীকী

জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তন দরকার
শুধু শরীর নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম হরমোনের ভারসাম্য ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ব্যায়াম ও যোগাভ্যাস: নিয়মিত শারীরিক কসরত স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
আবেগ প্রকাশের সুযোগ: নিজের অনুভূতি চেপে না রেখে লেখা, কথা বলা বা প্রয়োজনে কাউন্সেলিং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

সবসময় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা অনেক সময় অদৃশ্য এক মানসিক চাপ তৈরি করে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরেও পড়তে থাকে। সত্যিকারের সুস্থতা হয়তো তখনই আসে, যখন অন্যের প্রত্যাশা পূরণের চেয়ে নিজের শরীর ও মনের ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement