shono
Advertisement
acid reflux

বিয়েবাড়ির গুরুপাক খাওয়া মানেই সারা রাত বুকজ্বালা! রেহাই মিলবে ঘরোয়া উপায়েই

রাতের বেলা বদহজম-জনিত সমস্যার কারণে শরীর অস্থির লাগলে, অনেকেই প্যানিক করেন। অসময়ে সহজে চিকিৎসকের নাগাল পাওয়াও সম্ভব নয়। তবে কি বিয়েবাড়ির নেমন্তন্ন ‘মিস’ হয়ে যাবে? এর থেকে বাঁচার কি কোনও চটজলদি উপায় নেই?
Published By: Utsa TarafdarPosted: 06:24 PM Mar 10, 2026Updated: 06:29 PM Mar 10, 2026

সারা সন্ধে বিয়েবাড়ির গুরুপাক ভোজন— খাসির মাংস, ভেটকি পাতুরি অথবা রাবড়ি-জিলিপি! কিন্তু বাড়ি ফিরে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলেই শুরু হয় বিপত্তি। বারে বারে চোঁয়া ঢেকুর! একটু পরেই বুকজ্বালা! জল খেয়েও এ সমস্যা ঠিক হওয়ার নয়। ফলত ঘুমের ব্যাঘাত। পরের সারাদিন জুড়েও থেকে যায় অস্বস্তি।

Advertisement

অনেক সময়েই দেখা যায় যে গুরুপাক ভোজন দুপুরে হলে, তার রেশ বেশিক্ষণ থাকে না। কিন্তু রাতের খাবারে বাড়াবাড়ি হলে এ আশঙ্কা প্রবল। তাছাড়া অনেকেই এই আচমকা কষ্টে প্যানিক করেন। রাত বাড়লে সহজে চিকিৎসকের নাগাল পাওয়াও সম্ভব হয় না। তবে কি বিয়েবাড়ির নেমন্তন্ন ‘মিস’ হয়ে যাবে? এর থেকে বাঁচার কি কোনও চটজলদি উপায় নেই?

চিকিৎসকরা বলছেন, এই অবস্থার নাম ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’। রাতের দিকে এ কষ্ট বাড়ার রীতিমতো বিজ্ঞানসম্মত কারণ রয়েছে। আমরা যখন দাঁড়িয়ে বা বসে থাকি, তখন মাধ্যাকর্ষণের স্বাভাবিক নিয়মে পাকস্থলীতে থাকা অ্যাসিডিক উপাদান নিচের দিকে থাকে। কিন্তু রাতে যখন শুয়ে পড়ি, পেটের ভিতরের অ্যাসিড খাদ্যনালীর উপরের অংশে উঠে আসে। আর এতেই বেঁধে যায় গোল!

পেটের ভিতরের অ্যাসিড খাদ্যনালীর উপরের অংশে উঠে আসে।

খাওয়ার পরেই শোবেন না!

রাত বাড়তে দেবেন না! বিয়েবাড়িতে গেলে চেষ্টা করুন সন্ধের ব্যাচেই ডিনার সারতে। তারপর নাহয় গল্পগুজব করুন! সময় কাটান সকলের সঙ্গে। খাবার হজম হওয়ার সুযোগ পায় এতে। খাওয়া ও ঘুমের মধ্যে যদি ২-৩ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা যায়, তবে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

বামদিক ফিরে শোয়া অভ্যেস করুন

অনেকেই অদ্ভুত ভঙ্গিতে ঘুমিয়ে থাকেন রাতে! জানেন কি, অ্যাসিডিটি-জনিত সমস্যা খানিকটা হলেও শোয়ার ভঙ্গির উপর নির্ভরশীল! এ সময়ে অপেক্ষাকৃত উঁচু বালিশে মাথা রাখুন। এতে অ্যাসিড বুকে উঠে আসা রোধ করা যাবে। এছাড়া, বুকজ্বলার সময় চেষ্টা করতে হবে বামদিকে কাত হয়ে শোয়ার। এতে ভিতরের অ্যাসিড এসোফেগাসে ফিরে যেতে বাধা পায়। ফলে পেট-বুকের অস্বস্তি কমে।

পরিমাপ বুঝে খাবার খান

ভীষণ ভালোবাসেন! রোজ রোজ সুযোগ হয় না! তবু চেষ্টা করুন, পরিমাপ বুঝে খাওয়ার। প্রাণীজ প্রোটিন কতটা খাচ্ছেন, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিরামিষ খাবারেও মাত্রাতিরিক্ত তেল থাকলে, তা বুকজ্বালার কারণ হতে পারে।

খাওয়ার আধ ঘণ্টা পর পান করুন লেবু-জল

পাতিলেবুতেই বাজিমাত!

মাত্র দুই টুকরো লেবু বুকজ্বালা কমিয়ে দিতে পারে। বিয়েবাড়িতে অনেকেই তাই গুরুপাক খাওয়া শেষে চিবিয়ে খান পাতিলেবু! টক লাগলেও অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিন্তু তা খুব কার্যকরী! এমনটা যে করতেই হবে, তা নয়। বাড়ি ফিরে এসে রাতে শোয়ার আগে খেয়ে নিন এক গ্লাস লেবু-জল। যদি সেই মুহূর্তে অস্বস্তি না হয়, তবুও।

ঈষদুষ্ণ জলে দুই টুকরো লেবুর রস চিপে দিন। নুন, চিনি মেশানোর দরকার নেই। খাওয়ার আধ ঘণ্টা পর পান করুন এই লেবু-জল। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর শুতে যান।

তবে অনেক সময় এসব কোনও কিছুতেই কাজ হয় না। বিশেষত কারও যদি আগে থেকেই অ্যাসিডিটির ধাত থেকে থাকে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই জরুরি ওষুধ রেখে দিন হাতের নাগালে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। তবে অনেক সময়েই বুকে চাপ চাপ অস্বস্তি হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস হতে পারে। যদিও ঘরোয়া টোটকায় না সারে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement