shono
Advertisement
Cape Verde Goalkeeper Vozinha

চোখে ভয়ংকর সমস্যা ভোজিনহার, এই রোগে হারায় দৃষ্টিশক্তিও! জানুন লক্ষণ ও চিকিৎসা

চোখের এমন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ভোজিনহার অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতাও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 05:41 PM Jul 08, 2026Updated: 05:41 PM Jul 08, 2026

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে কেপ ভার্দে হারলেও ম্যাচের অন্যতম নায়ক ছিলেন তাদের গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha)। লিওনেল মেসিদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি মুগ্ধ করেছেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে। তবে তাঁর অসাধারণ গোলকিপিংয়ের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও সবার নজর কেড়েছে, তাঁর চোখ। সামাজিক মাধ্যমে এখন সবচেয়ে বেশি খোঁজ করা প্রশ্নগুলোর একটি, ভোজিনহার চোখে আসলে কী হয়েছে? তিনি কি কোনও গুরুতর রোগে আক্রান্ত?

Advertisement

ভোজিনহার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তিনি টেরিজিয়াম (Pterygium) নামে এক বিরল চোখের সমস্যায় ভুগছেন। এতে চোখের সাদা অংশে মাংসল টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, যা ধীরে ধীরে কর্নিয়ার উপর ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এই বৃদ্ধি এতটাই বেশি হয়, যে তা দৃষ্টিশক্তির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, টেরিজিয়ামের কারণে চোখে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, জ্বালাপোড়া, ব্যথা, শুষ্কভাব এবং কর্নিয়ার আকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে অ্যাস্টিগম্যাটিজম তৈরি হয় এবং চিকিৎসা না হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা হারানোর আশঙ্কাও থাকে।

নায়ক। ছবি: সংগৃহীত

কেন হয় এই সমস্যা?
টেরিজিয়াম সাধারণত তাঁদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়, যাঁরা দীর্ঘ সময় তীব্র রোদ, অতিবেগুনি বা ইউভি রশ্মি, ধুলোবালি বা বাতাসের মধ্যে কাজ করেন। কেপ ভার্দের মতো রৌদ্রপ্রধান দেশে বেড়ে ওঠা এবং বছরের পর বছর খোলা মাঠে ফুটবল খেলার কারণে ভোজিনহার ক্ষেত্রেও এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?

  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া
  • জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি
  • চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি
  • দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া

অতন্দ্র প্রহরী। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা কী?
টেরিজিয়াম দূর করার কোনও ওষুধ নেই। তবে আর্টিফিসিয়াল আইড্রপ ও চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ আই ড্রপ ব্যবহার করে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে যদি টিস্যুর বৃদ্ধি কর্নিয়ার বড় অংশ ঢেকে ফেলে, দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত করে বা বারবার প্রদাহ সৃষ্টি করে, তাহলে অস্ত্রোপচারই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।

বর্তমানে কনজাংকটিভাল অটোগ্রাফট পদ্ধতিকে সবচেয়ে সফল বলে মনে করা হয়। এতে আক্রান্ত টিস্যু সরিয়ে রোগীর নিজের সুস্থ কনজাংকটিভার একটি অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রয়োজনে মাইটোমাইসিন-সি ব্যবহার করে রোগটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকিও কমানো হয়।

চোখের এমন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ভোজিনহার অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতাও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আর সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর দৃষ্টিশক্তি আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement