দিনে ২-৩ বার ভারী খাবার, নাকি ৪-৬ বার অল্প অল্প করে, এই বিতর্ক নতুন নয়। ডায়েট ট্রেন্ড, ফিটনেস রুটিন, সব জায়গাতেই এ নিয়ে আলাদা মত। কিন্তু সত্যিটা একটু অন্যরকম, কোনও একটা পদ্ধতি সবার জন্য নয়।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, আমাদের প্রত্যেকের শরীর আলাদা। জীবনযাপন, মেটাবলিজম, কাজের ধরণ, এমনকী খিদের প্যাটার্নও এক নয়। তাই কার জন্য কোন খাবারের রুটিন কাজ করবে, সেটাও ব্যক্তিভেদে বদলায়।
পরিমাণটাও দেখুন। ছবি: সংগৃহীত
অভ্যেসটাই আসল
দিনে ২-৩ বার পেট ভরে খেলে অনেকের দীর্ঘক্ষণ খিদে পায় না, ফলে অযথা স্ন্যাকিং কমে। আবার কেউ কেউ অল্প অল্প করে ৪-৬ বার খেলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, খিদে নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীরও হালকা লাগে। তবে যেটাই বেছে নিন, নিয়ম মেনে খাওয়া আর সঠিক খাবার বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এনার্জি ও ব্লাড সুগারের ভারসাম্য
অনেকেই মনে করেন, বারবার খেলে এনার্জি সারাদিন স্থির থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এটা ঠিক, ছোট ছোট মিল ব্লাড সুগারের ওঠানামা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ব্যালান্সড ডায়েট, যেখানে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট আর স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঠিক মিশ্রণ থাকে, সেটাও দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখতে সমান কার্যকর।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় অনিয়মে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা বারবার মিল স্কিপ করলে পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, বিশেষ করে রাতে।
সবার জন্য এক ডায়েট নয় । ছবি: সংগৃহীত
কার জন্য কোনটা?
- ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে অনেক সময় অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়
- ওজন কমাতে চাইলে ৩ বার বা ৬ বার- দুটোই কাজ করতে পারে, যদি মোট ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে থাকে
- যারা খুব অ্যাকটিভ বা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা বেশি বার খেলে এনার্জি ধরে রাখতে সুবিধা পান
- আর যাদের জীবনযাপনে কম অ্যাকটিভ, তারা কম বার কিন্তু পরিমিত খেয়েই স্বচ্ছন্দ থাকতে পারেন
কী খাচ্ছেন সেদিকেও থাকুক নজর। ছবি: সংগৃহীত
মেটাবলিজম নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকের ধারণা, বারবার খেলে মেটাবলিজম বেড়ে যায়। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। শরীরের মেটাবলিজম মূলত নির্ভর করে আপনি মোট কতটা খাবার খাচ্ছেন তার উপর, কতবার খাচ্ছেন তার উপর নয়।
ওজন কমানো বা সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি একটাই, মোট ক্যালরি ও তার ভারসাম্য। তাই নির্দিষ্ট কোনও ট্রেন্ড নয়, নিজের শরীর আর রুটিনকে গুরুত্ব দিন। ৩ বার হোক বা ৬ বার, যে অভ্যেসটা আপনি নিয়ম মেনে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারবেন, সেটাই আপনার জন্য সঠিক পথ।
