ইন্টারনেটের দুনিয়ায় খাবারের ট্রেন্ড আসে ঝড়ের গতিতে। কখনও ডায়েট, কখনও অদ্ভুত রেসিপি। সেই ঢেউয়ে ভেসে এবার আলোচনার কেন্দ্রে 'এগ কফি'। ভিয়েতনামের জনপ্রিয় এক পানীয়, যা এখন সোশাল মিডিয়ার দৌলতে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল। দেখতে আকর্ষণীয়, স্বাদে ক্রিমি, তাই অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এই পানীয়টি ট্রাই করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকর্ষণের আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু বাস্তব স্বাস্থ্যঝুঁকি, যেগুলো অনেকেই উপেক্ষা করছেন।
এগ কফি। ছবি: সংগৃহীত
এগ কফি বানাতে প্রথমে গাঢ় কফি তৈরি করা হয়। এরপর একটি ডিমের কুসুম আলাদা করে সেটিকে কনডেন্সড মিল্ক ও চিনি বা মধুর সঙ্গে ভালো করে ফেটিয়ে ফেনার মতো হালকা ও ক্রিমি করা হয়। শেষে সেটি গরম কফির উপর ঢেলে পরিবেশন করা হয়। দেখতে যেন ডেজার্ট, কিন্তু আসলে তা এক ধরনের হাই-ক্যালরি কফি। আর এখান থেকেই শুরু সমস্যার সূত্রপাত।
কাঁচা ডিম, সংক্রমণের ঝুঁকি
এগ কফির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল কাঁচা বা অল্পসিদ্ধ ডিমের ব্যবহার। এতে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে, যা শরীরে ঢুকলে ডায়রিয়া, বমি, জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ মারাত্মক ডিহাইড্রেশনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি বা যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের জন্য এই ঝুঁকি আরও গুরুতর।
অভ্যাসে পরিণত হলেই বিপদ। ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরির সমস্যা
এই পানীয়তে কনডেন্সড মিল্ক ও চিনি বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। তার সঙ্গে ডিমের কুসুমের চর্বি, সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে ক্যালরিতে ভরপুর এক পানীয়। নিয়মিত পান করলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে, শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস বা অন্যান্য মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ে উদ্বেগ
ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল শরীরের জন্য একেবারে ক্ষতিকর না হলেও, অতিরিক্ত গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা টাইপ ২ ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এগ কফি নিয়মিত পান ঝুঁকিপূর্ণ।
হজমে অস্বস্তি, অ্যাসিডিটির বাড়াবাড়ি
সবাই কাঁচা ডিম হজম করতে পারেন না। অনেকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা, বমিভাব বা অস্বস্তি দেখা যায়। অন্যদিকে কফির অ্যাসিডিটি ও ডিমের চর্বি একসঙ্গে মিলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যাও বাড়াতে পারে।
ট্রেন্ড নয়, স্বাস্থ্যের কথাও ভাবুন। ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত ক্যাফেইনের প্রভাব
কফিতে থাকা ক্যাফেইন অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অনিদ্রা, অস্থিরতা বা উদ্বেগের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনে একাধিক কাপ এগ কফি পানে এই প্রভাব আরও তীব্র হয়।
ট্রেন্ড নয়, প্রাধান্য থাকুক স্বাস্থ্যে
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে এগ কফির স্বাদ নেওয়াই যায়, কিন্তু তা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়। খেলে পাস্তুরাইজড ডিম ব্যবহার করা, চিনি কম এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। মনে রাখবেন, সোশাল মিডিয়ার ট্রেন্ড ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু স্বাস্থ্যের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী।
