আমরা সবাই জানি, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর, তবু এই অভ্যাস কিছুতেই কমছে না। উলটে বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলোয় ইঙ্গিত মিলছে, পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার কিছুটা কমলেও, মহিলাদের মধ্যে তা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক এই কারণে যে, ধূমপানেও নারীদের শরীরে ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। গবেষণায় উঠে এসেছে, ধূমপায়ী নারীদের ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি ধূমপায়ী পুরুষদের তুলনায় বেশি, আর যাঁরা ধূমপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি নন-স্মোকার নারীদের তুলনায় বহু গুণ বেড়ে যায়।
শারীরিক ক্ষতির অন্ত নেই। ছবি: সংগৃহীত
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
অনেকের কাছে ধূমপান যেন এক ধরনের সামাজিক পরিচয়ের অংশ। আধুনিক বা স্মার্ট দেখানোর চেষ্টা। আবার অনেকেই মানসিক চাপ কমানোর সহজ উপায় হিসেবে সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন। বন্ধুদের প্রভাব বা পরিবেশও বড় ভূমিকা নেয়।
সাময়িক স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি
ফুসফুস ছাড়াও ধূমপানের প্রভাব পড়ে-
- দেখা দেয় ত্বকের সমস্যা। চামড়া শুষ্ক হয়ে যায়, বলিরেখা দেখা দেয়, বয়সের ছাপ দ্রুত ফুটে ওঠে।
- বাড়ে দাঁত ও মাড়ির সমস্যা, যা মুখের স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে।
- মানসিক দিক থেকেও ঝুঁকি কম নয়, ধূমপানের সঙ্গে উদ্বেগ ও অবসাদের সম্পর্ক বহু গবেষণায় উঠে এসেছে।
- শুধু তাই নয়, হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে, ফলে অল্প আঘাতেই ফ্র্যাকচারের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সুখটান, না সুস্থ জীবন? ছবি: সংগৃহীত
- সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়ে প্রজনন ক্ষমতার উপর। ধূমপান নারীদের ফার্টিলিটি কমিয়ে দিতে পারে, গর্ভধারণে সমস্যা তৈরি করে। এমনকী গর্ভপাত, অকাল প্রসব বা মৃত সন্তান জন্মের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
তাই প্রশ্নটা থেকে যায়, এই ক্ষণিকের সুখটান কি সত্যিই এত মূল্যবান? নিজের শরীর, ভবিষ্যৎ এবং মাতৃত্বের সম্ভাবনাকে ঝুঁকিতে ফেলে এই অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত? এখনই সময় সচেতন হওয়ার। ধূমপান কোনও স্টাইল নয়, এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ধ্বংস করে। আজই ভাবুন, সুখটান, না সুস্থ জীবন?
