ফ্যাটি লিভার এখন আর শুধু প্রবীণদের অসুখ নয়। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও মানসিক চাপের জেরে কমবয়সিদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে এই সমস্যা। উদ্বেগের বিষয় হল, ফ্যাটি লিভার অনেক সময় নিঃশব্দে শরীরের ক্ষতি করে চলে। প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও স্পষ্ট উপসর্গই থাকে না।
তবে চিকিৎসকদের মতে, লিভারের সমস্যার কিছু ইঙ্গিত চোখেই ধরা পড়তে পারে। কারণ লিভার রক্ত পরিশোধন, বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে তার প্রভাব চোখেও পড়তে পারে।
বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। ছবি: সংগৃহীত
১. চোখের সাদা অংশে হলদেটে ভাব
চোখের সাদা অংশে হলদেটে আভা দেখা গেলে তা জন্ডিসের লক্ষণ হতে পারে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে এমনটা হয়। এটি ফ্যাটি লিভারের সিভিয়ার স্টেজ বা লিভারের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এই লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. চোখে শুষ্কতা ও জ্বালাভাব
বারবার চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালা বা অস্বস্তি অনুভব করা অনেক সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে প্রদাহ বাড়ে, যা চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
৩. চোখের নীচে কালো দাগ
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরেও যদি চোখের নীচের কালো দাগ না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। লিভারের সমস্যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি তৈরি হতে পারে, যার ছাপ চোখের চারপাশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চোখেই লিভারের সমস্যার লক্ষণ! ছবি: সংগৃহীত
৪. চোখের চারপাশে ফোলাভাব
চোখের পাতা বা চারপাশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিলে তা শরীরে তরল জমার ইঙ্গিত হতে পারে। বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতা এবং লিভারের কার্যকারিতার অবনতির সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
৫. ঝাপসা দৃষ্টি
সব ক্ষেত্রে না হলেও, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ঝাপসা দেখার সম্পর্ক পাওয়া যায়। বিশেষত ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
কেন দেরিতে ধরা পড়ে ফ্যাটি লিভার?
ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি প্রায় উপসর্গহীন থাকে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় বা অন্য কোনও কারণে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে গিয়ে ধরা পড়ে রোগটি।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
- স্থূলতায় ভোগা ব্যক্তি
- ডায়াবেটিস আক্রান্ত
- যাঁদের কোলেস্টেরল বেশি
- শারীরিক পরিশ্রম কম করেন যাঁরা
- অতিরিক্ত মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয় ও জাঙ্ক ফুড খান যাঁরা
লিভারের সুস্থতায় জরুরি নিয়মিত শরীরচর্চা। ছবি: সংগৃহীত
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি চোখের রঙে বদল আসে, দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকা, চোখের চারপাশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দেয় বা ঝাপসা দেখতে শুরু করেন, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে লিভার ফাংশন টেস্ট ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করিয়ে নেওয়া উচিত।
প্রতিরোধের উপায়
ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver) প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর হল জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
মনে রাখবেন, চোখের এই পরিবর্তনগুলি মানেই যে ফ্যাটি লিভার, এমন নয়। তবে এগুলি শরীরের ভেতরে কোনও সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
