এক মুঠো স্ন্যাকস, আর তার পরেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বিপর্যয়। হিমাচল প্রদেশের যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ফের সামনে আনল চোকিং, অর্থাৎ, শ্বাসনালিতে খাবার আটকে যাওয়ার ভয়াবহ পরিণতি। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
হিমাচল প্রদেশের সোলান জেলার আরকি মহকুমার তাল গ্রামের ২৮ বছরের হেমন্ত শর্মার কুরকুরে খাওয়ার সময় হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। জানা যাচ্ছে, স্ন্যাকসের একটি টুকরো তাঁর শ্বাসনালিতে আটকে যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
ভালো করে চিবিয়ে খান। ছবি: প্রতীকী
কেন প্রাণঘাতী হতে পারে চোকিং?
চোকিং তখনই ঘটে, যখন খাবার বা অন্য কোনও বস্তু ভুলবশত খাদ্যনালির পরিবর্তে শ্বাসনালিতে ঢুকে যায়। এতে ফুসফুসে বায়ু চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। যদি শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে শরীর এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছানো বন্ধ হতে পারে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুকনো, শক্ত বা ভালোভাবে না চিবিয়ে গিলে ফেলা খাবার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। খেতে খেতে কথা বলা, হাসাহাসি করা বা তাড়াহুড়ো করে খাওয়াও বিপদ ডেকে আনতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?
চোকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত কিছু স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায়। যেমন—
- হঠাৎ কথা বলতে না পারা
- শ্বাস নিতে তীব্র অসুবিধা
- তীব্র কাশি
- শ্বাসে অস্বাভাবিক শব্দ
- গলায় চাপ অনুভব
- ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া
- আতঙ্কিত বা অস্থির আচরণ
- গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
চিকিৎসকদের মতে, ব্যক্তির যদি কাশি হয়, তাহলে তাঁকে কাশতে উৎসাহিত করতে হবে। কিন্তু শ্বাস নেওয়া বা কথা বলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে তা জরুরি অবস্থা।
চোকিং হলে কী করণীয়? ছবি: প্রতীকী
কারও চোকিং হলে কী করবেন?
এই ধরনের পরিস্থিতিতে সময়ই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে জোরে কাশতে বলুন। যদি তাতে কাজ না হয়, তবে কাঁধের দু-হাড়ের মাঝখানে পাঁচবার জোরে চাপড় দিন। প্রয়োজন হলে হিমলিচ ম্যানুভার প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে সিপিআর শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোকিংয়ের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ি, স্কুল, অফিস, রেস্তোরাঁ— যেকোনও জায়গায় ঘটতে পারে।
শুধু শিশু বা প্রবীণ নন, ঝুঁকিতে তরুণরাও
চোকিংয়ের ঝুঁকি শুধুমাত্র শিশু বা প্রবীণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সুস্থ-সবল তরুণদের ক্ষেত্রেও এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। দ্রুত খাওয়া, খাবার ঠিকমতো না চিবিয়ে গিলে ফেলা, খেতে খেতে কথা বলা বা হাসাহাসি করা এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বাদাম, শক্ত কোনও মিষ্টি, মাংসের বড় টুকরো, স্ন্যাকস এবং শুকনো খাবার চোকিংয়ের সাধারণ কারণগুলির মধ্যে অন্যতম।
উপসর্গকে অবহেলা নয়। ছবি: প্রতীকী
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, কিছু সাধারণ অভ্যাসই বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ধীরে ধীরে খাবার খান, ভালোভাবে চিবিয়ে গিলুন। খাওয়ার সময় গল্প করা বা হাসাহাসি এড়িয়ে চলুন। শিশুদের খাওয়ার সময় নজরে রাখুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, চোকিংয়ের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে রাখুন।
হেমন্ত শর্মার মৃত্যু এক নির্মম সত্যকে সামনে আনল। কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা কখনও কখনও কয়েক মিনিটের মধ্যেই জীবন কেড়ে নিতে পারে। তাই চোকিংকে হালকাভাবে না নিয়ে, সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপই হতে পারে জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।
