পায়ের পেশিতে টান ধরে মাঝরাতে (Leg Cramps at Night) ঘুম ভেঙে যায়? এটি বেশ পরিচিত এক সমস্যা। অনেকেই একে জল কম খাওয়া বা ক্যালসিয়ামের অভাব ভেবে উড়িয়ে দেন। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই অবহেলা ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। সাধারণ পেশির টান আসলে বড় কোনও হৃদরোগ বা রক্তনালীর সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে।
ফাইল ছবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের এই টান কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে বা হাঁটার সময় বাড়ছে কিনা, তা নজরে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে হাঁটাচলা করার সময় যদি পেশিতে ব্যথা বা টান শুরু হয় এবং বিশ্রাম নিলে কমে যায়, তবে তা মোটেও স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ’। অর্থাৎ, আপনার পায়ের রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ ক্রমশ কমতে শুরু করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষত যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে বা যাঁরা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাঁদের ঝুঁকি সবথেকে বেশি। রক্তনালীতে ব্লকেজ থাকলে পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। ফলে তৈরি হয় তীব্র যন্ত্রণা। অনেক সময় হার্ট ফেলিওরের কারণেও রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে পায়ে।
ফাইল ছবি
শুধু হার্ট নয়, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলেও এমনটা হতে পারে। ‘জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি’-র একটি সমীক্ষা বলছে, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম বা ক্যালসিয়ামের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি রাতের বেলা পায়ের টান বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া কোলেস্টেরল কমানোর কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বিশেষজ্ঞরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের দিকে নজর দিতে বলছেন। যদি সপ্তাহে একাধিকবার পায়ে টান ধরে, হাঁটার সময় ব্যথা বাড়ে কিন্তু বসলে কমে যায়, তবে দেরি করবেন না। এ ছাড়াও যদি পায়ের ত্বক অস্বাভাবিক ঠান্ডা থাকে কিংবা কোনও ক্ষত শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগে, তবে তা গুরুতর রক্তসঞ্চালন সমস্যার লক্ষণ। শরীর দিচ্ছে বিপদের আভাস, তাই সময় থাকতে সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
