কিডনি (Kidney) হোক বা পিত্তথলি (Gallbladder)— পাথর জমার সমস্যায় কাবু এখন অনেকেই। অসাবধানতা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই এর নেপথ্যের কারণ। আগে বয়স্কদের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যেত। এখন অল্পবয়সিদের মধ্যেও এই সমস্যা আকছার শোনা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম আর জল কম খাওয়ার অভ্যাসই ডেকে আনছে এই বিপদ।
ফাইল ছবি
কিডনি শরীরের ছাঁকনি। রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করে দেয়। কিন্তু শরীরে জল কম পড়লে সেই ছাঁকনির কাজে ব্যাঘাত ঘটে। ক্যালশিয়াম অক্সালেট বা ইউরিক অ্যাসিডের মতো খনিজ জমে দানা বাঁধে পাথর। অন্য দিকে, পিত্তথলির পাথর মূলত কোলেস্টেরল ও বিলিরুবিন জমার ফল। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। পাথর জমলে অসহ্য যন্ত্রণা, বমি ভাব ও অস্বস্তি জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সামান্য কিছু নিয়ম মানলেই এই প্রবণতা আটকানো সম্ভব। আগেভাগে কী সাবধানতা নেবেন?
ফাইল ছবি
১) পাথর প্রতিরোধের প্রধান শর্তই হল প্রচুর পরিমাণে জল পান করা। দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল শরীরের দূষিত পদার্থ ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়।
২) শরীরের ওজনের দিকেও নজর রাখা জরুরি। আচমকা ওজন বেড়ে যাওয়া যেমন ভয়ের, তেমনই ক্রাশ ডায়েট করে দ্রুত ওজন কমানোও বিপজ্জনক। এই দুই ক্ষেত্রেই হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা তাই আবশ্যিক।
৩) নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে যকৃতে কোলেস্টেরলের মাত্রা চড়ে যায়। এতে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার রাস্তা প্রশস্ত হয়। প্রাতরাশ বাদ দেওয়া বা অতিরিক্ত রাত করে খাওয়ার অভ্যাস বর্জন করাই শ্রেয়।
ফাইল ছবি
৪) খাদ্যতালিকায় বদল আনা জরুরি। যাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ধাত আছে, তাঁদের অতিরিক্ত নুন, চিনি ও অক্সালেট যুক্ত খাবার— যেমন পালংশাক বা বাদাম মেপে খাওয়া উচিত।
৫) লেবু জাতীয় ফল বা টাটকা সবজি বেশি করে খাওয়া দরকার। পিত্তথলির স্বাস্থ্য রক্ষায় রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও প্রসেসড মিট এড়িয়ে চলাই ভালো।
৬) ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন পাতে রাখলে এই লড়াই সহজ হয়। আসলে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আপনারই হাতের মুঠোয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসে।
