shono
Advertisement
Health tips

ঘুমানোর পরও স্থির থাকছে না পা, 'রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম' নয় তো? কী কী সমস্যা হতে পারে!

রাতে পা স্থির না থাকার সমস্যা যদি নিয়মিত হয় এবং ঘুম বা কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 04:35 PM Mar 03, 2026Updated: 04:41 PM Mar 03, 2026

রাতে ঘুমানোর পরও কি পা দু'টো একদম স্থির থাকছে না? অদ্ভুত এক অস্বস্তি যেন ভেতর থেকে নড়াচড়া করতে বাধ্য করে? এই বিষয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা, যা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী JAMA-তে। গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এই সমস্যায় ভোগেন। শতাংশের হিসেবে কম মনে হলেও, বাস্তবে সংখ্যাটা কয়েক মিলিয়ন মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে- বিশেষ করে তাঁদের ঘুম ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা।

Advertisement

কী এই রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম?
চিকিৎসকদের মতে, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (আরএলএস), যাকে উইলিস-একবম ডিজিজও বলা হয়, একটি স্নায়বিক সমস্যা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিক জানাচ্ছে, এই রোগে পায়ের ভেতরে অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হয়, যার ফলে পা নাড়িয়ে বা নড়াচড়া করে স্বস্তি পেতে ইচ্ছে করে। সাধারণত দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শুয়ে থাকার সময়, বিশেষ করে সন্ধে বা রাতের দিকে উপসর্গগুলো বেশি দেখা যায়। কেউ যখন বিশ্রাম নিতে চান, তখনই অস্বস্তি যেন বাড়তে শুরু করে।

ছবি: সংগৃহীত

নড়াচড়া করলে কেন স্বস্তি?
পা ঝাঁকানো, টানটান করা, উঠে দাঁড়ানো বা একটু হাঁটাহাঁটি করলে সাময়িক আরাম মেলে। কিন্তু সমস্যা হল, এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আবার স্থির হয়ে বসলে বা শুলে অস্বস্তি ফিরে আসে।

কী ধরনের অনুভূতি হয়?
এই রোগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল পা নাড়ানোর অদম্য তাগিদ। অনেকেই বলেন, দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকা, বিমানে ভ্রমণ বা সিনেমা দেখার সময় অস্বস্তি শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও তীব্র হয়, ফলে ঘুমের সময় দেখা দেয় অস্বস্তি, ঘুমে ঘটে ব্য়াঘাত। অনেকে আবার ঘুমের মধ্যেই বারবার পা ঝাঁকানো বা লাথি মারার মতো অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া করেন। এটিকে পিরিয়ডিক লিম্ব মুভমেন্ট বলা হয়, যাতে ঘুমের হয় দফারফা। এই অস্বস্তির অনুভূতিগুলো ভাষায় বোঝানো কঠিন। কেউ বলেন, পায়ের ভেতর দিয়ে যেন কিছু চলে বেড়াচ্ছে; কারও কাছে সেটা টান ধরার মতো, ধুকপুক করা, চুলকানি, ব্যথা বা হালকা শিরশিরে স্রোতের মতো লাগে। এগুলো ত্বকের ওপর নয়, ভেতরে অনুভূত হয়। সাধারণত দু'পা-ই আক্রান্ত হয়, যদিও কখনও কখনও হাতে-ও হতে পারে। এটা সাধারণ পেশির ক্র্যাম্প বা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো নয়; এর সঙ্গে থাকে নড়াচড়ার তীব্র তাগিদ।

ছবি: সংগৃহীত

এতে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?
এই সমস্যা যে কোনও বয়সে শুরু হতে পারে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপসর্গের তীব্রতাও বাড়তে পারে। ঘুম ব্যাহত হওয়ায় দিনে ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কখনও কিছুদিনের জন্য় উপসর্গ কমে যায়, আবার হঠাৎ ফিরে আসে। এই ওঠানামা রোগ নিয়ন্ত্রণকে জটিল করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলে।

রাতে পা স্থির না থাকার সমস্যা যদি নিয়মিত হয় এবং ঘুম বা কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement