ঘামকে আমরা সাধারণত গরম, ব্যায়াম বা ভিড়ভাট্টার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখি। কিন্তু কখন, কতটা, শরীরের কোথায় এবং কীভাবে আপনি ঘামছেন- এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলোই অনেক সময় শরীরের ভেতরকার কোনও সমস্যার বার্তা দিতে পারে। কারণ শরীর অকারণে কিছু করে না। চিকিৎসকদের মতে, সমস্যা হল এই লক্ষণগুলো এতটাই সাধারণ মনে হয় যে, আমরা বেশিরভাগ সময়ই গুরুত্ব দিই না। অথচ সময়মতো খেয়াল করলে বড় অসুখও আগেভাগে ধরা সম্ভব।
সব ঘাম একরকম নয়
ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হরমোন, শরীরের তাপমাত্রা, এমনকি আবেগও। তাই একই পরিবেশে থেকেও দু'জন মানুষের ঘামের ধরন আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে ঘাম দু'ধরনের- একটি গরম বা শারীরিক পরিশ্রমে, অন্যটি মানসিক চাপ বা আবেগের কারণে। যদি হঠাৎ ঘামের এই স্বাভাবিক ধরন বদলে যায়, সেটি শরীরের ভেতরকার কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
রাতের ঘাম: অবহেলা করবেন না
রাতে ঘেমে স্নান হওয়াকে অনেকেই গরমের দোষ বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি নিয়মিত এমন হয়, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত রাতের ঘামের সঙ্গে যদি জ্বর, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা দুর্বলতা থাকে, তাহলে তা সংক্রমণ, হরমোনের সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের লক্ষণ হতে পারে।
কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম
কোনও কাজ না করেও হঠাৎ ঘাম হওয়া অনেকেই স্ট্রেস বা আবহাওয়ার কারণে বলে মনে করেন। কিন্তু সবসময় তা নয়। এই ধরনের ঘাম থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিতও হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঠান্ডা ও চিটচিটে ঘাম: সতর্ক সংকেত
সব ঘাম গরম হয় না। হঠাৎ ঠান্ডা, চিটচিটে ঘাম হলে সেটি অনেক সময় জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, এটি হার্ট অ্যাটাক বা রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়ার মতো সমস্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। শরীর তখন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিপদের সংকেত দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
ঘাম বলছে হৃদ্যন্ত্র ও সুগারের কথা
ঘাম শুধু শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য নয়, এটি হৃদ্যন্ত্র ও মেটাবলিজমের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে অনেক সময় অতিরিক্ত ঘাম প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আবার রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে শরীরে অ্যাড্রিনালিন নিঃসরণ বাড়ে, যার ফলে হঠাৎ ঘাম শুরু হয়।
কোথায় ঘাম হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ
ঘামের জায়গা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যায়-
- হাতের তালু বা পায়ের পাতা ঘামা মানসিক চাপ বা উদ্বেগের লক্ষণ হতে পারে
- মুখে বেশি ঘাম হরমোন বা মেটাবলিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়
- শরীরের একদিকে বেশি ঘাম হলে স্নায়ুর সমস্যা থাকতে পারে
- সারা শরীরে অস্বাভাবিক ঘাম হলে সেটি বড় কোনও শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত
কখন সত্যিই সতর্কতা দরকার?
এই লক্ষণগুলো থাকলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান-
- হঠাৎ অকারণে ঘাম হওয়া
- রাতে বারবার ঘেমে বিছানা ভিজে যাওয়া
- ঘামের সঙ্গে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া বা ক্লান্তি
- ঠান্ডা ঘাম, সঙ্গে বুকে ব্যথা বা মাথা ঘোরা
শরীর সবসময়ই সংকেত দেয়, শুধু আমরা সবসময় তা বুঝতে পারি না। তাই এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকে অবহেলা না করে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সময়মতো সচেতন থাকলে বড় কোনও ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
