বর্তমানে ব্য়স্ত জীবনে আমরা সবসময়ই খুঁজি শর্টকাট। অফিসের কাজকর্ম থেকে খাওয়াদাওয়া সবেতেই শর্টকাটের খোঁজ। ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণও তার ব্য়তিক্রম নয়। ওজন কমানোর শর্টকাটের খোঁজে আমরা সবসময়ই নতুনের দিকে ঝুঁকি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ট্রেন্ড- কখনও '৫-২০-৩০', কখনও '২০-১০', এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন 'বাঁশের ম্যাসাজ' বা 'বাঁশ থেরাপি'। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যেন গরম বাঁশ গায়ের ওপর গড়িয়ে, শরীর থেকে মেদ গলিয়ে দেওয়া হচ্ছে! কিন্তু বাস্তবটা একটু অন্যরকম।
ছবি: সংগৃহীত
বাঁশ থেরাপি বা বাম্বু ম্যাসাজ আসলে একটি ডিপ টিস্যু ম্যাসাজ পদ্ধতি। এতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম বাঁশ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রেশার বা চাপ দেওয়া হয় এবং শরীরে ওপর বাঁশিটি গড়িয়ে ম্যাসাজ করা হয়। এর ফলে পেশির টান কমে, আরাম লাগে, আর রক্তসঞ্চালন কিছুটা বাড়ে।
অনেক সময় এটি ত্বককে সামান্য টোনডও করে। কারণ এটি ওয়াটার রিটেনশন কমায়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে শরীরের চর্বি কমছে।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই থেরাপি শরীরকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করলেও, ওজন কমানোর জন্য এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অর্থাৎ, যতই ভাইরাল হোক, এটি ফ্যাট বার্ন করার কোনও ম্যাজিক পদ্ধতি নয়।
বাঁশ থেরাপি মূলত শরীরকে শান্ত বা স্থির করে, শরীরের কোনও অংশে ফোলা ভাব থাকলে তা কমায় এবং রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য় করে। অনেক সময় এটি ত্বককে সামান্য টোনডও করে। কারণ এটি ওয়াটার রিটেনশন কমায়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে শরীরের চর্বি কমছে।
ছবি: সংগৃহীত
এই জায়গাতেই অনেকের ভুল ধারণা তৈরি হয়। ম্যাসাজের পর শরীর হালকা লাগে, ফোলা ভাব কমে, তাই মনে হয় ওজন কমেছে। কিন্তু আসলে ফ্যাট কমাতে গেলে প্রয়োজন ক্যালরি বার্ন করা, যা এই থেরাপিতে হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর কোনও শর্টকাট পদ্ধতি নেই। সঠিক খাদ্য়াভ্য়াস, নিয়মিত শরীরচর্চা, অর্থাৎ, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই একমাত্র ভরসা। বাঁশের ম্যাসাজ সেই রুটিনের একটি অংশ হতে পারে, যা স্ট্রেস কমায়, শরীরকে রিল্যাক্স করে। কিন্তু এটিকে ওজন কমানোর মূল অস্ত্র ভাবা ভুল।
তাই ট্রেন্ডে ঝাঁপ দেওয়ার আগে একটু ভাবা দরকার। শরীরের যত্ন নেওয়া মানে শুধু দ্রুত ফল পাওয়া নয়, বরং স্থায়ী ও স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনের দিকে এগনো।
