ক্লাসে প্রথম দশে থাকতে হবে। রয়েছে সেরার সেরা হওয়ার জন্য পারিবারিক চাপ। কিশোরীদের মানসিক উৎকণ্ঠার নেপথ্যে এই দুই প্রধান কারণ। সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়। বাংলার ১৭ হাজারের বেশি কিশোরীর উপর সমীক্ষা চালিয়েছে এক বেসরকারি সংস্থা। নয়া সমীক্ষার গঠনমূলক দিক তুলে ধরেছেন এসএসকেএমের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির মনস্তাত্ত্বিক সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মায়াঙ্ক কুমার। জানিয়েছেন, আগে গ্রামের মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হত। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কন্যাশ্রী, রূপশ্রী প্রকল্প মেয়েদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে। সে কারণে মেয়েরা আরও পড়তে পারছে।
এখন স্কুলপড়ুয়া কিশোরীদের মানসিক চাপ কাটাতে একাধিক স্কুলে রাখা হয়েছে কাউন্সিলর। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহর কলকাতায় আঠারো বছরের নিচে ৮ হাজার ৯৮২ জন কিশোরী নিজেরাই মানসিক উদ্বেগ কাটাতে স্কুলের কাউন্সিলরদের সাহায্য নিয়েছে। এই তথ্যকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন মনোবিদরা। সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য! ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি ৩৭৫০ জন তরুণী সরাসরি জানিয়েছে, পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কর্মজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তা মানসিক উদ্বেগের প্রধান কারণ। আবার ২৬ থেকে ৪৯, এই বয়সসীমার মধ্যে থাকা নারীরা আবার কর্মজীবন আর ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে নাজেহাল।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রীতি পারেখ জানিয়েছেন, কিশোরী এবং তরুণীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা আবশ্যিক। এসএসকেএমের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির মনস্তাত্ত্বিক সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মায়াঙ্ক কুমারের কথায়, বয়ঃসন্ধির মেয়েদের দিকে বিশেষ করে নজর দিতে হবে। ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার সময়টায় তাদের শরীরে কিছু পরিবর্তন হয়। এই সময় কিশোরীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা কাজ করে। শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হয়। এই সময় অনেকেই নিঃসঙ্গতায় ভোগে। ঠাট্টা-পরিহাসের মধ্যে দিয়েও যেতে হয়। নিবিড় কাউন্সেলিং এই সমস্যা কাটাতে পারবে।
