ক্রমশ বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই জারি করেছে তীব্র দাবদাহের সতর্কতা। এ সময় শুধু রোদ এড়িয়ে চললেই হবে না, শরীরের ভেতরে কী হচ্ছে, সেটাও বোঝা জরুরি। বিশেষ করে আর্দ্র গরমে ঘাম ঠিকমতো শুকোতে পারে না, ফলে শরীরের স্বাভাবিক ঠান্ডা রাখার প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়। ডিহাইড্রেশন অনেক সময় নীরবে শুরু হয়, আর দ্রুত বাড়লে তা হিটস্ট্রোকের দিকে গড়াতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
তাই খুব সহজ কিছু ঘরোয়া পরীক্ষায় আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন শরীরে জলের ঘাটতি শুরু হয়েছে কিনা-
১. স্কিন টার্গর টেস্ট বা চিমটি
কীভাবে করবেন?
হাতের তালুর পেছনের ত্বক বা বাহুর ত্বক দু-আঙুলে চিমটি কেটে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর ছেড়ে দিন।
ফলাফল
ত্বক যদি সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি কিছুক্ষণ ভাঁজ হয়ে থাকে, তাহলে শরীরে জলের ঘাটতি রয়েছে।
২. ক্যাপিলারি রিফিল টেস্ট
কীভাবে করবেন?
হাতটা বুকের সমানে তুলে নখে চাপ দিন, যতক্ষণ না সাদা হয়ে যায়, তারপর ছেড়ে দিন।
ফলাফল
দু-সেকেন্ডের মধ্যে রং ফিরে আসা স্বাভাবিক। এর বেশি সময় লাগলে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমের ইঙ্গিত হতে পারে, যা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ।
স্কিন টার্গর টেস্ট। ছবি: সংগৃহীত
৩. প্রস্রাবের রং দেখে বোঝা
কীভাবে করবেন?
বাথরুমে প্রস্রাবের রং লক্ষ্য করুন।
ফলাফল
হালকা হলুদ: শরীর হাইড্রেটেড, সমস্যা নেই
গাঢ় হলুদ: জল কম পান হয়েছে
খুব গাঢ় বা বাদামি: গুরুতর সতর্কবার্তা, দ্রুত ব্যবস্থা দরকার
৪. মুখের আর্দ্রতা পরীক্ষা
কীভাবে করবেন?
জিভ দিয়ে দাঁত বা মুখের ভেতরটা ছুঁয়ে দেখুন।
ফলাফল
স্বাভাবিক অবস্থায় মুখ ভেজা ও পিচ্ছিল থাকবে। যদি মুখ শুকনো লাগে, লালা ঘন হয়ে যায় বা 'কটন মাউথ' অনুভূতি হয়, তাহলে শরীরে জলের ঘাটতি রয়েছে।
ক্যাপিলারি রিফিল টেস্ট। ছবি: সংগৃহীত
৫. হার্ট রেট পরিবর্তন
কীভাবে করবেন?
আগে শুয়ে এক মিনিট পালস রেট মাপুন। তারপর হঠাৎ দাঁড়িয়ে আবার মাপুন।
ফলাফল
স্বাভাবিকভাবে সামান্য বাড়ে। কিন্তু যদি ১৫-২০ বিটের বেশি বেড়ে যায় বা মাথা ঘোরে, তাহলে শরীরে জলের ঘাটতি থাকতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
এই পরীক্ষাগুলো প্রাথমিক ধারণা দেয়, কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখলে দেরি করা উচিত নয়-
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- বিভ্রান্তি
- ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর
- জলপান বা খাবারে অনীহা
এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
দরকার পরিমিত জলপান। ছবি: সংগৃহীত
গরমে বাঁচার সহজ টিপস
শুধু জল নয়, শরীরে নুন ও খনিজও দরকার। তাই ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন ওআরএস। ১ লিটার জলে ৬ চামচ চিনি ও আধ চামচ নুন মিশিয়ে নিলেই তৈরি। গরমে সুস্থ থাকতে সবচেয়ে জরুরি হল নিজের শরীরের সংকেতগুলো বোঝা। একটু সচেতন থাকলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
