বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের গতিও হতে থাকে ধীর। প্রবীণদের কাছে ফিটনেস মানেই হালকা যোগব্যায়াম, নিয়মিত হাঁটা আর একটু স্ট্রেচিং। কিন্তু এই 'নিরাপদ' অভ্যাসই কি প্রবীণদের শরীরকে আরও নিষ্ক্রিয় করে দেয়? সিঙ্গাপুরের প্রবীণরা সেই ধারণাকে বদলে দিচ্ছেন এক নতুন পথে, যার নাম জেরিয়াট্রিক পারকুর (Geriatric Parkour)।
পারকুর, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ
পারকুর মানেই সিনেমার মতো দুঃসাহসিক লাফঝাঁপ নয়। জেরিয়াট্রিক পারকুরে সবকিছুই ধীরে-সুস্থে, নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী করা হয়। এখানে মূল লক্ষ্য হল- শরীরের ভারসাম্য রাখা, ছোট ছোট বাধা অতিক্রম করা এবং পড়ে গেলে নিরাপদে উঠে দাঁড়ানোর কৌশল শেখা। অর্থাৎ, দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতাকেই প্রশিক্ষণের অংশ করে তোলা।
ছবি: সংগৃহীত
ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যাওয়ার ভয় অনেকের মধ্যেই কাজ করে। এই ভয়ই অনেক সময় চলাফেরা কমিয়ে দেয়, ফলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। জেরিয়াট্রিক পারকুর সেই ভয়কে সরাসরি মোকাবিলা করতে শেখায়। শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেবে, কীভাবে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে, এই অনুশীলন আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
শরীর ও মস্তিষ্কের সমন্বয়
এই ধরনের ট্রেনিং শুধু পেশি শক্তিশালী করে না, বরং শরীর ও মস্তিষ্কের সমন্বয়ও উন্নত করে। হঠাৎ হোঁচট খেলে শরীর যেন থমকে না গিয়ে দ্রুত সাড়া দিতে পারে, এই দক্ষতাই এখানে গড়ে ওঠে। ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি না কমলেও, আঘাতের তীব্রতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারণার নতুন রূপ
ভারতে একসময় মল্লখাম্ব বা আখড়ার মতো চর্চায় শরীরের ভারসাম্য ও শক্তির উপর জোর দেওয়া হত। এখন সেই অভ্যাস অনেকটাই হারিয়ে গেছে। জেরিয়াট্রিক পারকুর সেই পুরনো দর্শনকেই আধুনিকভাবে ফিরিয়ে আনার একটি উপায় হতে পারে, যেখানে শরীরকে নানা পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা।
ধীরে-সুস্থে শুরু, নিয়মিত অনুশীলন
এই অনুশীলনে তাড়াহুড়োর কোনও জায়গা নেই। খুব সহজ মুভমেন্ট দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে শরীরকে অভ্যস্ত করা হয়। সপ্তাহে এক-দু'দিন নিয়মিত অনুশীলন, সঙ্গে হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম, এতেই বাড়ে শরীরের ফিটনেস, আসে পরিবর্তন। এখানে লক্ষ্য বড় কিছু করা নয়, বরং নিয়মিত শরীরচর্চার মধ্যে থাকা।
ছবি: সংগৃহীত
ফিটনেসের বাইরেও সামাজিক সংযোগ
জেরিয়াট্রিক পারকুর শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক কার্যকলাপও। বাইরে বেরোনো, নতুন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, একসঙ্গে শেখার অভিজ্ঞতা, এসবই অবসর জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করে।
বয়স মানে থেমে যাওয়া নয়। বরং সঠিকভাবে শরীরচর্চা শেখা গেলে শরীর আরও সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও, নিরাপদ ও প্রশিক্ষিত উপায়ে এই ধারণা প্রয়োগ করা গেলে, এটি প্রবীণদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
