লন্ডনের হাইড পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে হঠাৎই নজর কাড়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ব্য়াক ওয়াকিং বা উলটো হাঁটা। যেন চেনা পথেই অচেনা ছন্দ। সেই দৃশ্য় আমাদের মনে প্রশ্ন তুলেছিল- এ কি নিছক অভ্যেস, নাকি শরীর-মনকে জাগিয়ে তোলার এক নিঃশব্দ অনুশীলন? এই অদ্ভুত পদচারণার আড়ালেই লুকিয়ে আছে সুস্থতার এক অন্যরকম ইঙ্গিত।
সকালে ৩০ সেকেন্ড উলটো হাঁটা: ছোট অভ্যেস, বড় উপকার
দিনের শুরুতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড উলটো দিকে হাঁটা আপনার শরীর ও মনের ওপর আশ্চর্য প্রভাব ফেলতে পারে। এটি আমাদের স্বাভাবিক অভ্যেসের বাইরে গিয়ে শরীরকে নতুনভাবে সক্রিয় করে তোলে। ফলে দিনটা শুরু হয় বেশ সতেজভাবে।
উলটো হাঁটলে বাড়ে মনোযোগ। ছবি: সংগৃহীত
শরীর ও মস্তিষ্ক: দুই-ই পায় নতুন উদ্য়োম
উলটো হাঁটার সময় শরীরকে ভারসাম্য রাখতে বেশি মনোযোগ দিতে হয়। এতে মস্তিষ্ক আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে পায়ের এমন কিছু পেশি কাজ করে, যেগুলো সাধারণ হাঁটায় ততটা সক্রিয় হয় না। ফলে বাড়ে শরীরের সমন্বয় ক্ষমতা।
মস্তিষ্কের জন্য কেন উপকারী?
উলটো দিকে হাঁটা একধরনের 'ব্রেন ট্রেনিং'। এতে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও সমন্বয় ক্ষমতা বাড়তে পারে। কারণ, এই সময় মস্তিষ্ককে প্রতিটি পদক্ষেপ নতুনভাবে ভাবতে হয়। নিয়মিত এই চর্চা মানসিক তীক্ষ্ণতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
কী কী উপকার মিলতে পারে?
- শরীরের ভারসাম্য ও স্থিরতা বাড়ে
- পায়ের পেশি হয় মজবুত
- সাহায্য করে শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখতে
- হাঁটুর ওপর চাপ কমায়, জয়েন্ট বা সন্ধিস্থলকে রাখে সুরক্ষিত
- বাড়ায় মনোযোগ
উলটো হাঁটায় দরকার বাড়তি সতর্কতা। ছবি: সংগৃহীত
জরুরি কিছু সতর্কতা
উপকার থাকলেও কিছু ঝুঁকিও রয়েছে—
- হোঁচট খেয়ে পড়ার সম্ভাবনা
- ভিড় বা অসমান রাস্তায় এ ধরনের হাঁটা বিপজ্জনক
- শুরুতে মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হতে পারে
কতক্ষণ করবেন?
শুরুর জন্য ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিটই যথেষ্ট। পরে ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ৫-১০ মিনিট করা যেতে পারে। তবে সবসময় খোলা ও নিরাপদ জায়গা বেছে নেওয়াই উচিত।
স্ট্রেস কমাতেও কার্যকর
উলটো হাঁটার সময় মন স্বাভাবিক চিন্তা থেকে সরে গিয়ে নতুন কাজে ব্যস্ত হয়। এতে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমে এবং একধরনের মানসিক প্রশান্তি তৈরি হয়।
দেখতে অদ্ভুত হলেও, এই ছোট্ট অভ্যেস শরীর ও মনের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। দিনের শুরুতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড উলটো হাঁটা, এ যেন নিজের সঙ্গে এক নতুন সংযোগ তৈরি করার সহজ উপায়। তবে সতর্কতাগুলো মাথায় রেখেই অভ্যেস করুন, তবেই মিলবে সুফল।
