shono
Advertisement
World Organ Donation Day

বিশ্ব অঙ্গদান দিবস: নিয়মিত ধূমপান-মদ্যপান, আপনার অঙ্গ বাঁচাতে পারে অন্যের প্রাণ?

ধূমপান করেন? মদ্যপানের অভ্যাস আছে? ওজনও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি? তা হলে কি অঙ্গদানের ইচ্ছেটা ছেড়ে দিতে হবে?
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 02:22 PM Aug 13, 2026Updated: 09:15 PM Aug 13, 2026

ধূমপান, মদ্যপান বা স্থূলতা থাকলে অঙ্গদান করা যাবে না। সত্যি কি তাই? অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, নির্দিষ্ট অঙ্গটি কতটা সুস্থ এবং তা অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য নিরাপদ কি না।

Advertisement

চিকিৎসকদের কথায়, কেউ ধূমপান করেন, মদ্যপান করেন বা স্থূলতায় ভুগছেন বলেই তিনি অঙ্গদাতা হতে পারবেন না, এমন নয়। আসল বিষয় হল তাঁর অঙ্গগুলির অবস্থা।

ভারতে প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গের প্রয়োজন অনেক বেশি। তাই সম্ভাব্য দাতার অঙ্গগুলি একে একে পরীক্ষা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।

একজনের অঙ্গে বাঁচে অনেক প্রাণ। ছবি: সংগৃহীত

ধূমপান করলেও কি অঙ্গদান সম্ভব?
দীর্ঘদিন ধূমপান করলে ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। বাড়তে পারে ক্যানসার এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ধূমপায়ীর সব অঙ্গই প্রতিস্থাপনের অনুপযুক্ত।

চিকিৎসকেরা দেখেন, ফুসফুস কতটা ভালো কাজ করছে, হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থা কেমন, কত বছর ধরে ধূমপানের অভ্যাস এবং তার ফলে শরীরে কতটা ক্ষতি হয়েছে। ফুসফুসে সমস্যা থাকলেও অন্য কোনও অঙ্গ সুস্থ থাকতে পারে। সেই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত হলে তা অন্যের জীবন বাঁচাতে কাজে লাগতে পারে। অর্থাৎ, ধূমপান অঙ্গদানের দরজা বন্ধ করে দেয় না।

মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে?
অতিরিক্ত এবং দীর্ঘদিন মদ্যপান করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে লিভারের। পাশাপাশি আক্রান্ত হতে পারে হৃদ্‌যন্ত্র-সহ অন্যান্য অঙ্গও। ফলে মদ্যপানের ইতিহাস থাকলে অঙ্গের স্বাস্থ্য আরও সতর্কভাবে পরীক্ষা করা হয়।

তবে শুধু মদ্যপান করেন বলেই কোনও সম্ভাব্য দাতার অঙ্গ বাতিল করে দেওয়া হয় না। কোন অঙ্গে কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটিই মূল প্রশ্ন। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য কোনও অঙ্গ যথেষ্ট সুস্থ থাকতে পারে এবং প্রতিস্থাপনের জন্য তা বিবেচনা করা হতে পারে।

ধূমপান, মদ্যপান বাধা নয়। ছবি: সংগৃহীত

স্থূলতা থাকলে কি অঙ্গদান করা যায়?
স্থূলতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা জড়িয়ে থাকতে পারে। তাই সম্ভাব্য দাতার কিডনি, লিভার, হৃদ্‌যন্ত্র-সহ বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসকেরা মূলত জানতে চান, যে অঙ্গটি প্রতিস্থাপন করা হবে সেটি আদৌ সুস্থ এবং নিরাপদ কি না। দাতার ওজন বেশি হলেই সেই অঙ্গ অযোগ্য হয়ে যায় না।

বয়সও কি বাধা?
শুধু বয়স দেখেও অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বেশি বয়সের কোনও ব্যক্তির অঙ্গ যথেষ্ট ভালভাবে কাজ করতে পারে। আবার কম বয়সি কারও অঙ্গেও এমন কোনও অজানা সমস্যা থাকতে পারে, যা তার কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। তাই বয়স নয়, অঙ্গের প্রকৃত স্বাস্থ্যই শেষ কথা।

অঙ্গদানে বাড়ুক সচেতনতা। ছবি: সংগৃহীত

কী দেখে অঙ্গ বাছেন চিকিৎসকেরা?
অঙ্গদানের আগে সম্ভাব্য দাতার সম্পূর্ণ চিকিৎসা-ইতিহাস খতিয়ে দেখা হয়। বয়স, আগে থেকে থাকা রোগ, সংক্রমণ, বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা এবং অঙ্গের ক্ষতির মাত্রা, সবই বিবেচনায় আসে।

কোনও অঙ্গ প্রথম পরীক্ষায় পুরোপুরি উপযুক্ত বলে মনে না হলেও আরও বিশদ পরীক্ষা করে তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হতে পারে। কারণ প্রয়োজনের তুলনায় প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা অঙ্গের সংখ্যা এখনও কম।

জীবিত অবস্থায় অঙ্গদানেও রয়েছে আলাদা নিয়ম
মৃত্যুর পর অঙ্গদানের সঙ্গে জীবিত অবস্থায় অঙ্গদানের নিয়ম এক নয়। জীবিত দাতা সাধারণত একটি কিডনি অথবা লিভারের একটি অংশ দান করতে পারেন। তবে তার আগে দাতার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। কারণ অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দাতার নিজের স্বাস্থ্যের উপর ঝুঁকি তৈরি করা যায় না।

তাই অঙ্গদাতা হওয়ার জন্য একেবারে নিখুঁত স্বাস্থ্য থাকা জরুরি নয়। ধূমপান, মদ্যপান, স্থূলতা বা বেশি বয়স থাকলেও অঙ্গদান সম্ভব হতে পারে। শেষ সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা, প্রতিটি অঙ্গের স্বাস্থ্য এবং প্রতিস্থাপনের নিরাপত্তা বিচার করে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement