সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় রাজ্য সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প যে এক মহতী ভূমিকা পালন করছে, শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে এসে সে কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chattopadhyay)। তাঁর মতে, বহু অসহায় ও দরিদ্র মানুষ এই কার্ডের মাধ্যমে আজ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাঁদের জীবনে বড় স্বস্তির বিষয়।
অনুষ্ঠানে পরমব্রতকে বরণ হাসপাতালের কর্ণধার সুজিত দত্তের
শনিবার দুর্গাপুরের বিবেকানন্দ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য ‘স্বাস্থ্য কার্নিভাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা। হাসপাতালের কর্ণধার সুজিত দত্তের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্বলন করে এই মেলার সূচনা করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরমব্রত (Parambrata Chattopadhyay) বলেন, “সারা ভারতবর্ষের কথা বলতে পারব না, তবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কীভাবে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করে তা আমি নিজে চোখের সামনে দেখেছি। এই কার্ড আজ অসহায় পরিবারগুলোর কাছে আশার আলো।”
সরকারি পরিষেবার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিনেতা স্পষ্ট জানান, কেবল গ্রামীণ মানুষ নন, খোদ শহর কলকাতার শিক্ষিত সমাজও এখনও সরকারি হাসপাতালের ওপর আস্থাশীল। তাঁর কথায়, “গোটা কলকাতায় আমার নিজের আত্মীয়দেরও দেখেছি এখনও সরকারি হাসপাতালেই পরিষেবা নিতে যান। এটা আসলে অ্যাফর্টেবিলিটির প্রশ্ন।” পাশাপাশি, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বিবেকানন্দ হাসপাতাল যেভাবে এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীদের পরিষেবা দিচ্ছে এবং কাউকে ফিরিয়ে দিচ্ছে না, সেই উদ্যোগেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন অভিনেতা।
খুদে শিশুদের সঙ্গে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়
স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই ধরনের কার্নিভালের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরমব্রত বলেন, “মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সচেতনতা পৌঁছে দিতে এই আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি কলকাতা থেকে কেবল এই শুভেচ্ছাবার্তা দিতেই এসেছি।” এদিন তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান, পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে আগত রোগীদের ক্ষেত্রেও যেন চিকিৎসার দরজা একইভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিল্পাঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বিবেকানন্দ হাসপাতালের এই ২৮ বছরের যাত্রাপথকে এলাকার উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
