সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শরীরের যে কোনও অংশেই থাবা বসাতে পারে ক্যানসার। তবে কানের ক্যানসার বা ‘ইয়ার ক্যানসার’ অত্যন্ত বিরল হওয়ায় অনেক সময় তা শনাক্ত করতে দেরি হয়ে যায়। সাধারণ কানের ব্যথা ভেবে অবহেলা করার মাসুল হতে পারে প্রাণহানি। চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়া এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
কানের ব্যথা আমাদের অনেকেরই অতি পরিচিত সমস্যা। সাধারণত ব্যথার ওষুধ খেলে বা ড্রপ ব্যবহার করলে তা কমে যায়। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার কয়েক দিন পরেই যদি ব্যথা আবার ফিরে আসে, তবে তাকে কানের ক্যানসারের (Ear Cancer) প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে ধরা যেতে পারে। বিশেষ করে এই ব্যথা যদি তীব্র ও অসহ্য হয়, তবে তা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। অনেক ক্ষেত্রে কানের বাইরের অংশ বা ‘এক্সটারনাল ইয়ার’-এ ত্বকের ক্যানসার হিসেবে এই মারণ রোগের সূচনা হয়। যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভেতরে। আবার অনেক সময় কানের গহ্বর বা কর্ণনালীতে টিউমার তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘ইয়ার ক্যানাল ক্যানসার’। মধ্যকর্ণ বা ‘মিডল ইয়ার’ আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রাথমিক স্তরে লক্ষণগুলি চিনতে না পারার কারণেই ক্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কানের মোম বা সেরুমেনের রঙের পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি বোধ করলে ঘরোয়া টোটকায় ভরসা না রেখে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সময়মতো ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ থাকতে সচেতনতাই এখন একমাত্র পথ।
