বর্ষা এলেই মাঠে ফের জমে ওঠে ফুটবলের উন্মাদনা। তবে এই সময়েই সবচেয়ে বেশি বাড়ে হাঁটুর গুরুতর চোটের আশঙ্কা। ভেজা মাঠে পা পিছলে যাওয়া, হঠাৎ দিক বদলানো বা লাফানোর সময় ভারসাম্য হারানো— এমন কোনও ভুলে ছিঁড়তে পারে হাঁটুর গুরুত্বপূর্ণ লিগামেন্ট অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল)। এই চোট সারতে অনেক সময় অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে কয়েক মাসের রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়।
অর্থোপেডিক সার্জনদের কথায়, বর্ষায় ভেজা মাঠে খেলাধুলার সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ, পিচ্ছিল মাটিতে জুতোর গ্রিপ কমে যায়। তখন শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হলে হাঁটু অস্বাভাবিকভাবে মোচড় খায়, আর তাতেই ছিঁড়ে যেতে পারে এসিএল। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, ভলিবল বা টেনিস— যে খেলায় দ্রুত দৌড়, হঠাৎ থামা বা দিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, সেগুলিতে ঝুঁকি আরও বেশি।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এসিএল?
এসিএল হাঁটুর অন্যতম প্রধান লিগামেন্ট। দৌড়ানো, লাফানো, ঘোরা বা দ্রুত দিক পরিবর্তনের সময় হাঁটুকে স্থিতিশীল রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাঁটু দুর্বল হয়ে পড়ে, বারবার বেঁকে যেতে পারে এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটা বা খেলাধুলা করাও কঠিন হয়ে ওঠে।
থাকুক খেলার আনন্দ। ছবি: সংগৃহীত
অবহেলা করলে বাড়বে বিপদ
অনেকেই ব্যথা বা ফোলা কিছুটা কমে গেলে চিকিৎসা করান না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল। চিকিৎসা না হলে হাঁটুতে দীর্ঘদিন অস্থিরতা থাকতে পারে, তরুণাস্থির ক্ষতি হতে পারে, বারবার হাঁটু বেঁকে যেতে পারে। এমনকী ভবিষ্যতে অল্প বয়সেই অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই চোট লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চোটের মাত্রা অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি, রিহ্যাবিলিটেশন বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
কী করলে ঝুঁকি কমবে?
খেলার জন্য সবসময় ভালো গ্রিপযুক্ত, উপযুক্ত জুতো পরুন। মাঠে নামার আগে ওয়ার্ম-আপ ও ডায়নামিক স্ট্রেচিং করুন। নিয়মিত উরু, হ্যামস্ট্রিং, কাফ ও গোড়ালির পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করুন। আর মাঠে যদি জল জমে থাকে বা অতিরিক্ত পিচ্ছিল হয়, তাহলে সেদিন খেলা এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একটি ম্যাচের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকার ঝুঁকি নেওয়ার কোনও অর্থ নেই।
সামান্য সতর্কতায় এড়ানো যায় বড় বিপদ। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের দিকেও নজর দিন
বৃষ্টিতে খেলতে শিশুদের উৎসাহ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু জলের নীচে গর্ত, অসমান মাটি বা পিছল অংশ চোখে না-ও পড়তে পারে। ফলে পড়ে গিয়ে হাঁটু বা হাড়ে গুরুতর চোট লাগার আশঙ্কা থাকে। তাই অভিভাবকদের উচিত নিরাপদ জায়গায় খেলতে দেওয়া এবং উপযুক্ত জুতো পরার বিষয়ে সচেতন থাকা।
কোন লক্ষণ দেখলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
খেলার সময় হাঁটুতে অস্বাভাবিক অনুভূতি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফুলে যাওয়া, পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে না পারা, হাঁটু বারবার বেঁকে যাওয়া বা ব্যথা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে দেরি না করে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বর্ষার আনন্দে খেলাধুলা হোক নিশ্চিন্তে। শুধু মনে রাখুন, সামান্য সতর্কতাই হাঁটুর বড় চোট এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
